কক্সবাজার অফিস
একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সরাসরি হস্তক্ষেপে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। ওই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার সাথে একটা শক্তিশালী সিন্ডিকেটও কাজ করেছে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সহযোগিতায়। ওই প্রভাবশালী নেতা-সিন্ডিকেট চায় না হামিদ আযাদ মহেশখালী কুতুবদিয়ার এমপি হোক। মূলত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেই হামিদ আযাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে ওই নেতা এবং সিন্ডিকেট। ওই নেতার বিরোধী ভূমিকার কারণেই রিটার্নিং কর্মকর্তা বর্তমান সময়ের আলোচিত হেভিওয়েট প্রার্থী হামিদ আযাদের আইনজীবীর কোনো আরগুম্যান্ট কর্ণপাত না করে মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়ার সাহস পান। অথচ বিষয়টি ২০১৮ সালে নিষ্পত্তি হয়ে হামিদ আযাদ নির্বাচনের যোগ্যতা অর্জন করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্র পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন হচ্ছে কক্সবাজার-২ তথা মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসন। কুতুবদিয়া উপজেলা দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ এবং মহেশখালী উপজেলার অবস্থানও তিনদিকে সাগর অপরদিকে একটি চ্যানেল। এই মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতেই হচ্ছে দেশের গভীর সমুদ্র বন্দর। নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলছে।
মূল টার্মিনাল ও বে-টার্মিনালের কাজ ২০২৯-২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে চালু হয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। বর্তমানে প্রয়োজনীয় কয়লা পরিবহন করতে এই বন্দর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কয়লা বোঝাই বড় জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ে সক্ষমতা দেখিয়েছে।
বন্দরকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাথে সংযুক্ত করতে ২৭ কিলোমিটারের চার লেনের একটি সড়ক নির্মাণের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। মাতারবাড়ীকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী হয়ে হাইওয়ে দিয়ে যুক্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়াও পরিকল্পনায় রেল সংযোগ এবং নদীর মাধ্যমে পরিবহন ব্যবস্থা চালু করা হবে।
জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিবাদী সরকারের লোকজন পালিয়ে গেলে একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ওই প্রভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বন্দরের চলমান কাজকর্মে ভাগ বসায়। ব্যাপক চাঁদাবাজি, নির্মাণের যাবতীয় মালামাল সরবরাহের কাজসহ সব কিছু একচ্ছত্রভাবে বাগিয়ে নেয়। হামিদ আযাদ এমপি নির্বাচিত হলে এসব বন্ধ হবে এবং কর্তৃত্ব হারানোর আশঙ্কায় মূলত পরিকল্পিতভাবেই তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করে ষড়যন্ত্রের প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে সিন্ডিকেট।
সূত্র মতে, আপিলে হামিদ আযাদের মনোনয়নপত্র বৈধতা পেলেও ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকবে যেন তিনি নির্বাচিত হতে না পারেন। জুলাই বিপ্লবের পর কক্সবাজার একচ্ছত্রভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন ওই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। জেলা প্রশাসনের সব কমিটিতে তার পছন্দের নেতা কর্মীদের সদস্য করেছেন। চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ ওই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা চান না হামিদ আযাদের মতো একজন কেন্দ্রীয় নেতা কক্সবাজারে নেতৃত্ব দিক।
এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিল বিষয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলে তিনি বিস্তারিত শুনানি করতে পারতেন এবং তার মনোনয়নপত্র হয়তো টিকেও যেত কিন্তু উনার অনুপস্থিতিতে অন্যরা আইনি বিষয়টি নিয়ে যথাযথভাবে শুনানি করতে পারেননি এবং শুনানির জন্য সময়ও প্রার্থনা করেননি। শুনানিতে হামিদ আযাদের পক্ষে অংশ নেয়া অ্যাডভোকেট আক্তার উদ্দিন হেলালী জানান, রিটার্নিং অফিসার তার মোবাইলে একটা হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজ দেখেই হামিদ আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।



