শিবচরে শত কোটি টাকার সেতুর পাড়ে ভাঙন

নদীশাসনের দাবি এলাকাবাসীর

Printed Edition

আহসান হাবীব শিবচর (মাদারীপুর)

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদে ভাঙনের কারণে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুর দুই প্রান্ত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চলতি বর্ষায় সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের দক্ষিণ পাশে নতুন করে নদীভাঙন শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দ্রুত নদীশাসন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে সেতু এবং এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিবচর-উৎরাইল সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদের উপর নির্মিত সেতুর আশপাশে গত বর্ষায় প্রায় ২০০ মিটার নদীতীর ভেঙে যায়। এবারো একই এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনের কারণে নদীর গতিপথ সেতুর পিলারের আরো কাছাকাছি চলে এসেছে, যা ভবিষ্যতে সেতুর স্থায়িত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুর নিচে ও দক্ষিণ প্রান্তে নদীর তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে বালুমাটির তীর ধসে পড়ছে। প্রতিদিনই কিছু না কিছু অংশ নদীতে বিলীন হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, গত বছর থেকেই ভাঙন শুরু হয়েছে। সেতুর নিচে ও পাশের অংশে ঘূর্ণিস্রোতের কারণে নদীতীর ক্ষয় হচ্ছে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে সেতু ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনির খান বলেন, সেতুটি চালু হওয়ার পর শিবচরের পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এটি শিবচর সদর, দত্তপাড়া, শিরুয়াইল, নিলখী ইউনিয়ন এবং রাজৈর ও ভাঙ্গা উপজেলার সাথে সরাসরি যোগাযোগ সহজ করেছে। তাই সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

উৎরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিটন মুন্সী বলেন, প্রতিদিন সেতু দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে তিনি ভাঙনের চিত্র দেখছেন। বর্ষা বাড়ার সাথে সাথে ভাঙন আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া ৫৫০ মিটার দীর্ঘ ও ৯ দশমিক ৮০ মিটার প্রশস্ত সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেতুটিতে ১১টি স্প্যান ও ৯টি পিলার রয়েছে। এটি নির্মিত হওয়ায় এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের দীর্ঘ দিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমে।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। মাদারীপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বাদল চন্দ্র কীর্তনীয়া জানান, সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরো তীব্র হওয়ার আগেই জরুরি ভিত্তিতে নদীশাসন ও তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু করা হোক, যাতে কোটি টাকার অবকাঠামো এবং হাজারো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ থাকে।