নয়া দিগন্ত ডেস্ক
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফলাফল প্রকাশের পর সারা দেশে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উল্লাস দেখা গেলেও ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে কয়েকটি জেলায়। পঞ্চগড়, জামালপুর ও কিশোরগঞ্জে মোট সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেয়া কোনো পরীক্ষার্থীই পাসের মুখ দেখতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ও রয়েছে, যেখানে সরকার নিয়মিত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করছে। শিক্ষার্থী সঙ্কট, শিক্ষকদের অনিয়মিত পাঠদান ও চরম দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন বিপর্যয় ঘটেছে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে :
বোদায় ২ স্কুলের ৪ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করেনি : পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠান দু’টি হলো- বলরামহাট মডেল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এবং বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। এর মধ্যে বলরামহাট মডেল স্কুল থেকে একজন এবং সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষা দিয়েছিল।
বলরামহাট স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, ১০০ জন শিক্ষার্থীর জায়গায় উপস্থিতি মাত্র ১০ জন। ১০ জন শিক্ষকের মধ্যে ছিলেন মাত্র তিনজন। ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নন-এমপিও বিদ্যালয়ে পাঠদান ঠিকমতো হয় না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সহকারী শিক্ষক ললিতা রাণী জানান, একমাত্র পরীক্ষার্থী পড়াশোনায় দুর্বল ছিল। অন্য দিকে বোদা সর্দারপাড়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে কোনো সাইনবোর্ড পাওয়া যায়নি, শ্রেণিকক্ষগুলোও ছিল পরিত্যক্ত।
বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুর ইসলাম জানান, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার মাধ্যমে বিদ্যালয় দু’টিকে মূলধারায় ফেরানোর চেষ্টা করা হবে।
জামালপুরে চার প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য : জামালপুরের চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয়া কোনো শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এর মধ্যে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে। ১১ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারীর এমপিওভুক্ত এই প্রতিষ্ঠান থেকে তিনজন অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক মো: সাইফুল্লার ফোন বন্ধ রয়েছে।
একই উপজেলার বীর মাইজবাড়ি দাখিল মাদরাসা থেকেও কেউ পাস করেনি বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আরিফা আক্তার। এ ছাড়া বকশীগঞ্জের শেফালী মফিজ মহিলা মাদরাসা থেকে ১৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। অপর দিকে সরিষাবাড়ীর এমপিওভুক্ত ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ১১ জন পরীক্ষা দিয়ে কেউই পাস করতে পারেনি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে চরম দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
পাকুন্দিয়ায় এক বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল : কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন নিম্ন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। আটজন শিক্ষক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেয়া পাঁচজন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও কেন এমন ফল বিপর্যয় হলো, তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। সচেতন মহলের দাবি, দায়িত্বহীনতার কারণে এই লজ্জাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওমর ফারুক ভূঁইয়া জানান, শিগগিরই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এই ফলের ব্যাখ্যা চেয়ে কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে। পাকুন্দিয়া ইউএনও রূপম দাস বলেন, কেন এমনটি ঘটলো তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।



