ঈদের পর বোর্ডের সাথে বৈঠক শিক্ষার্থীদের জন্যও কড়া বার্তা

নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনে মাঠে নামছেন শিক্ষামন্ত্রী

শাহেদ মতিউর রহমান
Printed Edition

  • প্রয়োজনে আকাশপথে যেকোনো কেন্দ্রে পরিদর্শন
  • প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা

এখন থেকেই ভালো প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ

দুই দশক রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে থাকার পর এবার দায়িত্ব নিয়েই আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আবারো অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি। আর এ জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আসন্ন ঈদের পরেই দেশের ১১টি শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে বসবেন তিনি। একই সাথে পরীক্ষার্থীদের জন্য কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানিয়েছেন এখন থেকেই তোমাদের পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো বাড়তি কোনো সুবিধা কোনো শিক্ষার্থী আর পাবে না। হোক সেটা পরীক্ষার হল কিংবা উত্তরপত্র মূল্যায়নে।

চলতি বছর থেকেই নতুনভাবে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করার ফলে সম্মিলিতভাবে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হলেও সেটা সবাইকে মেনে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মন্ত্রী জানান, প্রয়োজনে অতীতের মতো দেশের যেকোনো জেলা বা উপজেলায় আকাশ (বিমান বা হেলিকপ্টারে) পথে গিয়ে হলেও আকস্মিকভাবে কেন্দ্র পরিদর্শন করা হবে। আর এজন্য অতি শিগগিরই প্রতিটি কেন্দ্র সচিবকে নিজ উদ্যোগে (স্কুল ফান্ড ব্যবহার করে) সিসি ক্যামেরা প্রতিস্থাপনেরও নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁস এবং নকল রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন শিক্ষা মন্ত্রী।

এ বিষয়ে গত শনিবার রাজধানীর মিন্টুরোডের সরকারি বাসভবনে শিক্ষা সাংবাদিকদের সংগঠন ‘এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ইরাব)-এর সদস্যদের সাথে ইফতার পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হয়। পরীক্ষা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের পরীক্ষা ‘নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা সবার জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মন্ত্রী বলেন, আমরা অতীতে সফল হয়েছি, এবারো সেই ধারা বজায় থাকবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যারা প্রশ্ন ফাঁসের অপচেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি বলেন, আমি নিজে মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করব।

শিক্ষামন্ত্রী তার পরিকল্পনা অনুযায়ী পরীক্ষার আগেই তিন ধাপে কাজ করার কথা জানান। প্রথম ধাপে তিনি আসন্ন ঈদের আগেই পৃথক পৃথকভাবে ১১টি শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন। বোর্ড কর্মকর্তাদের মতামত নিয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরি করে সে মোতাবেক কাজ এগিয়ে নেবেন। এরপর তিনি পরীক্ষার প্রতিটি কেন্দ্রে নিজস্ব অর্থায়নে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশনা দেবেন। এবং সর্বোপরি তিনি নিজে অতীতের মতো দেশের কোনো কেন্দ্রে আকস্মিক অভিযানে গিয়ে নকলকারী শিক্ষার্থী কিংবা নকল সরবরাহকারী শিক্ষক বা অন্য যে কেউ জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

সারাদেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব শিক্ষার্থীর জন্য একই স্ট্যান্ডার্ড বা মানদণ্ড থাকা উচিত। বিশ্বজুড়ে যদি বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা অভিন্ন প্রশ্নে হতে পারে, তবে আমাদের দেশেও তা সম্ভব। আমরা আগামী বছর থেকে এই পদ্ধতি চালুর বিষয়ে কী করা যায় সে চিন্তাভাবনা করছি। মন্ত্রণালয়কে নিজের ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে মিলন বলেন, ‘আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে আমি এমন ভিত্তি তৈরি করতে চাই, যা ১৮০ বছরের সমতুল্য প্রভাব ফেলবে। আমার লক্ষ্য হলো ধীরস্থিরভাবে কাজ করে যাওয়া, যাতে কোনো ভুল পদক্ষেপ না হয়।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও শিক্ষা বোর্ডের সমন্বয়ে তিন স্তরের স্ক্রিনিং প্রসেস রাখার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।

এ ছাড়া ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনকে নিজের অন্যতম প্রধান মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাজের গতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি কর্মকর্তাদের বলেছি, গতানুগতিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত ও দক্ষতার সাথে কাজ শেষ করতে হবে। এখানে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, বরং শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করতে এসেছেন।