উইম্বলডনের নতুন রানী নস্কোভা

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

স্নায়ুচাপ, পাঁচটি ম্যাচ পয়েন্ট হাতছাড়া এবং নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পরও শেষ পর্যন্ত ইতিহাস গড়লেন চেক প্রজাতন্ত্রের তরুণ টেনিস তারকা লিন্ডা নস্কোভা। অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সেন্টার কোর্টে অনুষ্ঠিত উইম্বলডনের নারী এককে স্বদেশী প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যারোলিনা মুচোভাকে ৬-২, ৫-৭ ও ৬-৩ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম শিরোপা জিতেছেন ২১ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।

পেশাদার টেনিসের ইতিহাসে এই প্রথম উইম্বলডনের নারী এককের ফাইনালে মুখোমুখি হন চেক প্রজাতন্ত্রের দুই খেলোয়াড়। শুরু থেকেই নবম বাছাই নস্কোভা ছিলেন দাপুটে। মাত্র ৩২ মিনিটে প্রথম সেট ৬-২ গেমে জিতে নেন তিনি। দ্বিতীয় সেটেও ৫-২ গেমে এগিয়ে গিয়ে শিরোপার খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান।

তবে ম্যাচ তখনো শেষ হয়ে যায়নি। অভিজ্ঞ মুচোভা অসাধারণ লড়াই করে ম্যাচে ফিরে আসেন। ২-৫ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় তিনি তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট রক্ষা করেন। এরপর নস্কোভা নিজের সার্ভিস গেমে ডাবল ফল্ট করলে আরো একটি ম্যাচ পয়েন্ট নষ্ট হয়। ৪-৫ অবস্থায় পঞ্চম ম্যাচ পয়েন্টও বাঁচিয়ে দেন মুচোভা। এরপর টানা পাঁচটি গেম জিতে দ্বিতীয় সেট ৭-৫ ব্যবধানে নিজের করে নিয়ে ম্যাচকে নির্ধারণী সেটে নিয়ে যান।

দ্বিতীয় সেটের হতাশা কাটিয়ে তৃতীয় সেটে আবারো নিজেকে ফিরে পান নস্কোভা। দৃঢ় মানসিকতা ও আক্রমণাত্মক খেলায় ৫-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। মুচোভা একটি গেম ফিরিয়ে দিলেও দ্বিতীয়বারের মতো ম্যাচ জয়ের জন্য সার্ভ করতে নেমে আর কোনো ভুল করেননি নস্কোভা।

এক ঘণ্টারও বেশি সময় আগে প্রথম ম্যাচ পয়েন্ট পাওয়ার পর অবশেষে আরো দু’টি ম্যাচ পয়েন্ট তৈরি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত একটি দুর্দান্ত সার্ভিসে ম্যাচ নিশ্চিত করে স্বস্তি ও আনন্দে কোর্টেই লুটিয়ে পড়েন। এভাবেই নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম শিরোপা জয়ের স্বপ্ন পূরণ করেন এই তরুণ তারকা।

শিরোপা জয়ের পর আবেগাপ্লুত নস্কোভা বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ আমি অসাধারণভাবে উপভোগ করেছি। আনন্দের অশ্রু, দুঃখের অশ্রু, ঘাম আর পরিশ্রম সবকিছুই আজ সার্থক হয়েছে। এই দুই সপ্তাহ আমি কখনো ভুলব না।’ বক্তব্যের সময় তিনি আকাশের দিকে চুম্বন ছুড়ে দেন, যা ছিল দুই বছর আগে মারা যাওয়া তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধার প্রকাশ।

অন্য দিকে ফাইনালে দ্বিতীয়বারের মতো গ্র্যান্ডসø্যামের শিরোপা হাতছাড়া করলেন ২৯ বছর বয়সী মুচোভা। এর আগে তিনি ফরাসি ওপেনের ফাইনালেও রানার্সআপ হয়েছিলেন। ইনজুরির সাথে দীর্ঘ লড়াই শেষে আবারো বড় মঞ্চে ফিরে এলেও এবারো শিরোপার স্বাদ পাওয়া হলো না তার।

ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় মুচোভা বলেন, ‘এ মুহূর্তে কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমার প্রাক্তন বন্ধুর এটি ছিল প্রথম গ্র্যান্ডসø্যাম ফাইনাল। যেভাবে তুমি চাপ সামলে খেলেছ- তা সত্যিই অসাধারণ।’

নস্কোভার এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে টানা চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো উইম্বলডনের নারী এককের শিরোপা গেল চেক প্রজাতন্ত্রের ঘরে। এর আগে ২০২৩ সালে মার্কেতা ভনদ্রুশোভা এবং ২০২৪ সালে বারবোরা ক্রেইচিকোভা শিরোপা জিতেছিলেন। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উইম্বলডনের নতুন রানী হিসেবে নিজের নাম লিখিয়ে নিলেন লিন্ডা নস্কোভা।