প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফরে শুধু বাজেট সহায়তা খাতেই ৫০ কোটি ডলার পাওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়াও রেল খাত উন্নয়নে ২৫ কোটি ডলার এবং অন্য কয়েকটি খাতে ২৫ কোটি ডলার পাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে জাপানের কাছ থেকে মোট ১০০ কোটি ডলার পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, নিক্কেই ফোরামের ‘ফিউচার অব এশিয়া’ সম্মেলনে যোগ দিতে আজ বুধবার ভোরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সফরে জাপান রওনা হয়েছেন। দেশটির সাথে সাতটি সমঝোতাস্মারক ও চুক্তি সই হতে পারে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
শফিকুল আলম বলেন, জাপানে কিভাবে প্রশিক্ষিত জনবল পাঠানো থযায়, বিষয়টি এবারের সফরে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। প্রধান উপদেষ্টা আপাতত এক লাখ জনবল সেখানে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছেন। এর জন্য ভাষা প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিভাবে ভাষা প্রশিক্ষণ দিয়ে জনবল পাঠানো যায়, সে বিষয়ে গভীর আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
বিনিয়োগ সম্পর্কিত বাংলাদেশ বিজনেস সেমিনারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, জাপান সফরে মহেশখালী-মাতারবাড়ী অঞ্চলের উন্নয়ন উদ্যোগ (এমআইডিআই) বাস্তবায়নের বিষয় হবে ড. ইউনূসের আলোচনার প্রধান বিষয়। জাপান কর্তৃক বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের জন্য কী কী সুবিধা দেয়া যায়, সেসব বিষয় তুলে ধরবেন প্রধান উপদেষ্টা। সেখানে ৩০০-এর ওপরে জাপানি বিনিয়োগকারী উপস্থিত থাকবেন বলে উল্লেখ করেন শফিকুল আলম।
মহেশখালী-মাতারবাড়ী সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগে প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে অনেকগুলো প্ল্যান। পুরো প্ল্যানটা যদি এগজিকিউট করা হয়, সেখানে ইনভেস্ট লাগবে ১৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো, সেই জায়গায় কিভাবে ইনভেস্টমেন্ট আনা যায়, সেটির জন্য এই সফরে ফোকাস থাকবে। তিনি বলেন, মহেশখালী- মাতারবাড়ীতে ছয়টি পোর্ট টার্মিনাল হবে। যেখানে পৃথিবীর বড় বড় জাহাজ ভিড়বে। এখানে একটি সিটি হবে, অনেকগুলো পাওয়ার প্ল্যান্ট, লজিস্টিক হাব, ম্যানুফ্যাকচারিং হাব, এনার্জি হাব হবে। এগুলো প্রত্যেকটার জন্য জাপান সফরে তিনি ইনভেস্টর দেখবেন। অনেক আগে জাপানের এ বিষয়ে অনেক ইন্টারেস্ট ছিল। বড় বড় কোম্পানি যাতে বাংলাদেশে ইনভেস্ট করে, পুরো ট্যুরে ফোকাসটা থাকবে। তিনি আরো বলেন, মাতারবাড়ী যখন ডেভেলপ হবে, সেই সময়ে কক্সবাজারও ডেভেলপ হবে। খুব দ্রুত কক্সবাজারে এয়ারপোর্টকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৈরি করা হচ্ছে।
এই সফরে নিক্কেই ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সাথে ৩০ মে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা। দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের বৈঠকে সাতটি সমঝোতাস্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া তিনি দু’টি সেমিনারে অংশগ্রহণ করবেন। এর বাইরে তিনি জাপানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাওয়ার্ড পাবেন বলে জানান প্রেস সচিব। আগামী ৩১ মে প্রধান উপদেষ্টার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
এ দিকে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, জুলাইযোদ্ধা যারা বিষপান করেছেন বলা হচ্ছে, ওনারা আদৌ বিষপান করেছেন কি না, এটা নিয়ে খোঁজ চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে যে, ওনারা যেটা পান করেছেন, সেটি আসলেই বিষ কি না। আজাদ মজুমদার বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে, দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলে একধরনের হতাশা কাজ করে। সরকারের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদেরকে মানসিকভাবে যতটা সাপোর্ট দেয়ার। এরপরও কারো মধ্যে যদি কোনো ধরনের হতাশা থাকে, আমরা মনে করি যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তারা এ বিষয়ে আরো যতœবান হবেন। তাদেরকে যত বেশি সম্ভব মানসিকভাবে সমর্থন জুগিয়ে যাবেন।’
প্রসঙ্গত, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গত রোববার আহত চারজন জুলাইযোদ্ধা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাদেরকে আশঙ্কামুক্ত জানান এবং ভর্তি রেখে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গণ-অভ্যুত্থানে আহত ১৫,৩৯৩ জন সরকারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছেন
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ১৫ হাজার ৩৯৩ জন সরকারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ৩৩৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ছাড়া ৫১ জন জুলাযোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড এবং রাশিয়ায় পাঠিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে জুলাই আহতদের চিকিৎসা সেবায় সরকার ৬১ কোটি দুই লাখ টাকা খরচ করেছে। আরো ২৮ জন জুলাইযোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও তুরস্ক পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসারত জুলাইযোদ্ধাদের পরামর্শ সেবা দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, চীন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও নেপাল থেকে ২৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনা হয়েছে, যারা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ৮৩৪টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৬৩০টি শহীদ পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ৬৩ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র প্রদানের জন্য ব্যাংকে চেক প্রদান করা হয়েছে। অবিশিষ্টদের ওয়ারিশ নির্ধারণ সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র প্রদান প্রক্রিয়াধীন।



