জাপানি রাষ্ট্রদূতের আশা নবগঠিত সংসদ দ্রুতই প্রয়োজনীয় সংস্কার করবে

Printed Edition
জাপান দূতাবাসে সিপিডির সেমিনারে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ অতিথিরা  : নয়া দিগন্ত
জাপান দূতাবাসে সিপিডির সেমিনারে রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচিসহ অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেছেন, উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে যে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে, সেটি প্রশংসনীয়। আশাকরি নবগঠিত সংসদ এখন বিলম্ব না করে প্রয়োজনীয় সংস্কারগুলো সম্পন্ন করবে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আরো সুদৃঢ় হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আস্থা বাড়বে।

রাজধানীর বারিধারায় গতকাল জাপানি দূতাবাসে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) সুযোগ সর্বোচ্চ কাজে লাগানো’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

জাপান দূতাবাসের সহযোগিতায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ সেমিনার আয়োজন করে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে সেমিনারে পৃথক চারটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, জাপানের ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের ইমেরিটাস অধ্যাপক কেনিচি ওহনো ও ব্যাংকক রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি ইয়াসুশি উএকি।

অনুষ্ঠানে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য সহিংসতা ছাড়াই নির্বাচনের মাধ্যমে যে রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটেছে, সেটি প্রশংসনীয়। এটি জাতির জন্য ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রগতির একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে সহিংসতার পরিবর্তে সমঝোতা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজার যে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এতে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতেও দেশের ঝুঁকি মূল্যায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নতি হয়েছে।

তিনি বলেন, গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সাথে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সই করেছে। জাপানের পক্ষ থেকেও কোনো স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) সাথে এটি প্রথম ইপিএ। এই চুক্তি বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে একটি বড় পদক্ষেপ। একসময় আশিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ক্ষেত্রে এমন দেখা গিয়েছিল। একই সাথে ইপিএ চুক্তি একটি শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

বাংলাদেশ ক্রমেই জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে মন্তব্য করে সাইদা শিনিচি বলেন, এখন পর্যন্ত সম্ভাবনার তুলনায় বাংলাদেশে জাপানের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ খুবই সীমিত। তবে আমরা আশা করি, ইপিএ এফডিআই বাড়াতে একটি অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে। এটি ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততা বাড়াবে এবং জাপানি কোম্পানিগুলোর কাছে এই ক্রমবর্ধমান বাজার সম্পর্কে নতুন আগ্রহ তৈরি করবে।

দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে নতুন সরকারের ইতিবাচক বার্তা জাপানি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ইপিএ শুধু শুল্ক কমানোর বিষয় নয়। এর মধ্যে কাস্টমস পদ্ধতি, বাণিজ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন নিয়মকানুন এবং সেবা খাতের বিধানসহ বিস্তৃত নীতিমালা ও শৃঙ্খলা অন্তর্ভুক্ত থাকে। এর পূর্ণ সুফল পেতে কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শিল্পোন্নয়ন ও কাঠামোগত রূপান্তর ঘটাতে হবে, যা শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, নীতিগত সমন্বয় এবং বিনিয়োগ সহায়তার মাধ্যমে সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ‘বাংলাদেশে উন্নয়ন ও শিল্পনীতির পুনর্বিবেচনা’ বিষয়ে প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এলএফএমইএবি) সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ওয়াইস পারাই, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক মোহাম্মদ মাহফুজ কবির, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, জাইকার বাংলাদেশ অফিসের সিনিয়র রিপ্রেজেন্টেটিভ হিরোশি ইয়োশিদা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুলতানা ইয়াসমিন।

দ্বিতীয় পর্বে ‘ভবিষ্যতের বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সহযোগিতা অন্বেষণ বিষয়ে’ প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ, নিট পোশাকমালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি মো: ফজলুল হক, জাতিসঙ্ঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ সৈয়দ ইউসুফ সাদাত, জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (জেবিসিসিআই) সভাপতি তারেক রাফি ভূঁইয়া, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) বাংলাদেশ কার্যালয়ের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজুইকি কাতাওকা।