স্টারলিংকের শূন্যতা পূরণে রাশিয়ার নতুন সামরিক কৌশল

Printed Edition

এশিয়া টাইমস

ইউক্রেন যুদ্ধে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ড্রোনসহ আধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় গতি আনতে চায় রাশিয়া। আর সে কারণে নতুন প্রযুক্তির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে মস্কো। সম্প্রতি ইলন মাস্কের স্টারলিংক সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তৈরি হওয়া কৌশলগত শূন্যতা পূরণে রাশিয়ার প্রযুক্তি খাত এখন জোরকদমে মাঠে নেমেছে।

এই নতুন উদ্যোগে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বড় ভূমিকা রাখছে দেশটির বেসরকারি খাত। বিশেষ করে ‘রাসভেত-৩’ নামের একটি নতুন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক এবং ‘ভোলনা কুপোল গ্যারান্ট’ নামের একটি বিশেষ জ্যামিং ব্যবস্থা চালু করে নিজেদের সামরিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে ক্রেমলিন। যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীর মতো রুশ সেনারাও স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্পেসএক্স-এর স্টারলিংক ব্যবস্থার ওপর আংশিক নির্ভর করত। তবে চলতি বছরের শুরুতে কঠোর আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে রাশিয়াকে স্টারলিংক নেটওয়ার্ক থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর তাৎক্ষণিক বিকল্প হিসেবে রুশ বাহিনী ড্রোনভিত্তিক ‘মেশ নেটওয়ার্ক’ ব্যবহারের চেষ্টা করলেও সংযোগের ধীরগতি এবং শত্রুপক্ষের কাছে অবস্থান উন্মোচিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

এই জটিল সঙ্কট সমাধানে এগিয়ে আসে আইকেএস হোল্ডিংয়ের অধীনস্থ বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘বিউরো ১৪৪০’। তাদের উদ্ভাবিত ‘রাসভেত-৩’ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কটি উচ্চ কক্ষপথ থেকে অতি দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান করতে সক্ষম। সরকারি ও বেসরকারি শতকোটি ডলারের যৌথ বিনিয়োগে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫৬টি উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপন করা। এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সক্রিয় হলে রণক্ষেত্রে স্টারলিংকের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। একই সাথে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আক্রমণ রুখতে এবং শত্রুপক্ষের ব্যবহৃত স্টারলিংক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে রুশ বাহিনী যুক্ত করেছে ‘ভোলনা কুপোল গ্যারান্ট’ নামের একটি উন্নত জ্যামিং প্রযুক্তি। ক্রিমিয়াভিত্তিক বেসরকারি সামরিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘রসিস্কি কুপোল’ এই স্যাটেলাইট বিধ্বংসী জ্যামারটি তৈরি করেছে। সাধারণ আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দীর্ঘ সরকারি প্রক্রিয়া এড়িয়ে সরাসরি মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের কাছে এই প্রযুক্তি সরবরাহ করা হচ্ছে। ট্রেলারে স্থাপিত এই ব্যবস্থায় আটটি মোটরচালিত প্যারাবোলিক ডিশ অ্যান্টেনা ব্যবহার করে নিম্ন কক্ষপথের স্টারলিংক স্যাটেলাইটগুলোকে ট্র্যাক করা হয় এবং প্রায় ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সিগন্যাল অকার্যকর করে দেয়া সম্ভব হয়।