ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে বেড়েছে সেবার মান, কমেছে খরচ

Printed Edition

রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)

এক সময়ের অপরিচ্ছন্ন আর অব্যবস্থাপনার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল এখন আধুনিক ও মানসম্মত সেবার মডেলে পরিণত হয়েছে। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোস্তাফিজুর রহমানের যোগদানের পর মাত্র দেড় বছরে পাল্টে গেছে হাসপাতালের দৃশ্যপট। সরকারি খরচ কমিয়ে সেবার মান বৃদ্ধিতে তিনি ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কঠোর তদারকি নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগী আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপনের ফলে জ্বালানি খরচ নাটকীয়ভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছিল, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্ধেকে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে শুধু এক খাতেই সরকারের সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া হাসপাতালের সাইকেল স্ট্যান্ডের ইজারা আগে মাত্র ৮০ হাজার টাকা হলেও এবার তা উন্মুক্ত টেন্ডারে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বর্তমানে হাসপাতালে সিলিন্ডারের বদলে আধুনিক প্ল্যান্টের মাধ্যমে প্রতিটি বেডে পাইপলাইনে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে বছরে সাশ্রয় হচ্ছে আরো ২০-২৫ লাখ টাকা। প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। এক হাজার ২০০ টাকার ইলেক্ট্রোলাইট পরীক্ষা এখন হাসপাতালে মাত্র ২০০ টাকায় করা যাচ্ছে। যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল এক্স-রে ও কালার ইকো কার্ডিওগ্রামের মতো আধুনিক সুবিধা।

সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড এখন পরিচ্ছন্ন। রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের মান তদারকি করছে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল। সপ্তাহে দুই দিন পরিবেশন করা হচ্ছে ছাগলের গোশত। গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি রোগী হালিমা খাতুন বলেন, আগে হাসপাতালে দুর্গন্ধে থাকা যেত না, এখন পরিবেশ অনেক ভালো। খাবার ও ওষুধের মানও আগের চেয়ে উন্নত। তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সরকারের দেয়া নিয়মানুযায়ী প্রতিটি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নাগরিক সেবা দেয়াই আমার লক্ষ্য।