নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ দেড় মাস পর গতকাল থেকে পুনরায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করেছে রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এর আগে সোমবার বিকেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ফেরত দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
এদিকে আবার সেবা শুরু হবে জানার পর গতকাল সকাল থেকেই আউটডোরে সার্ভিস নিতে আসা রোগীদের ঢল নামে। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের খবরটি যেমন ঢাকার গণমাধ্যমে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়েছে তেমনি গতকাল থেকে হাসপাতালের সেবা আবার শুরু হবে সেটাও প্রচারিত হয়েছে। তা জেনেই নারী ও শিশুদের নিয়ে অভিভাবকরা সেবা নিতে আসেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬০৭ জন রোগীকে সেবা দেয়া হয়েছে। ইনডোর রোগী হিসেবে ভর্তি হয়েছেন ৫৬ জন নারী ও শিশু। এছাড়া গতকাল ৩টি শিশুর স্বাভাবিক প্রসব ও ৮টি শিশুর সিজারিয়ান হয়েছে।
শরীয়তপুর থেকে সেবা নিতে আসা আমেনা আক্তার জানান, এই হাসপাতালে আমার প্রথম সন্তান নরমালে এবং দ্বিতীয় সন্তান সিজারের মাধ্যমে হয়েছে। আগামী মাসে আমার আবারো সন্তান প্রসবের ডেট রয়েছে, তাই আজ মঙ্গলবার ডাক্তার দেখাতে এসেছি। এর আগে দুইবারই এখানকার ডাক্তার-নার্সদের ব্যবহার ভালো লেগেছে, তারা রোগীদের প্রতি আন্তরিক। সে কারণে আবারো এসেছি। মাঝখানে গত দুই মাস হাসপাতালটি বন্ধ ছিল বলে রুটিন চেকআপ অন্য জায়গায় করাতে হয়েছে। সেইসব অভিজ্ঞতা ভালো লাগেনি।
রোগীদের সাথে এই মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নরত বিদেশী শিক্ষার্থীরাও অনেকটা স্বস্তিতে আছেন। বিশেষ করে, ভারতীয় শিক্ষার্থীরা। কারণ সে দেশের আইন অনুযায়ী যে মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস করবে সেই মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালেই ইন্টার্ন করতে হবে। অন্য কোথাও করলে হবে না। সে কারণ হাসপাতালটি বন্ধের পর তারা খুবই অস্বস্তিতে ছিলেন যে ইন্টার্ন করতে না পারলেতো তারা দেশে গিয়ে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত হতে পারবেন না। তারাও স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলেছেন আবার হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু হওয়ায়। ভারতীয় কোনো শিক্ষার্থী নিরাপত্তার কারণে কথা বলতে না চাইলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেপালি এক শিক্ষার্থী জানান, হাসপাতাল বন্ধ থাকলেও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম চালু ছিল। তৃতীয় থেকে শেষ বর্ষ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ক্লিনিকেল কার্যক্রমও সীমিত পর্যায়ে চালু ছিল। আজ (মঙ্গলবার) থেকে পুরোপুরি হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হওয়া তাদের জন্য আনন্দের ছিল।
আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের মানবসম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক জাহেদ হোসাইন জানান, এখানে প্রায় দুই হাজার স্টাফ কাজ করেন। হাসাপাতাল বন্ধ করে দেয়ায় তাদের চাকরি হুমকির মুখে পড়ে গিয়েছিল। স্টাফদের মধ্যে অনেক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাও ছিল। লাইসেন্স ফেরত পাওয়ায় সেই উৎকণ্ঠা কেটে গেছে। আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. জামালুন্নেসা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল আবার চালুর অনুমতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদফতর, সেবাগ্রহীতা, সাংবাদিক, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডাক্তার, নার্স ও কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আশা করি রোগীরা আগের চেয়ে আরো ভালো সেবা পাবেন।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে ছয় শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটি সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।



