বগুড়া অফিস
বগুড়ার শিল্প ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সদর উপজেলায় ৪০০ একর জমির ওপর নতুন বিসিক শিল্পপার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত শিল্পপার্কের জন্য সদরের কৈচড় এলাকায় জমি পরিদর্শন করা হয়েছে। শিল্পপার্কে নতুন কলকারখানা স্থাপনের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। শনিবার বগুড়ার মমইন কনভেনশন সেন্টারে বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও এতদিন চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন হয়নি। বৈষম্য ও অবহেলা কাটিয়ে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। শিল্প ও ব্যবসার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধক সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গত ২০ বছর বগুড়া বঞ্চিত হয়েছে। সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর না করে এখানকার মানুষ বেসরকারি খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। এতে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে বগুড়ার মানুষ অবদান রাখতে পেরেছেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বগুড়ায় উৎপাদিত পণ্য প্রায় তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকার বাজার তৈরি করে দেশ-বিদেশে যায়। এতদিন বগুড়া অবহেলিত থাকলেও এখন উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চালুর চেষ্টা চলছে। আগামী মাস থেকে বগুড়ায় ড্রোন তৈরির কারখানার কাজ শুরুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া যানজট নিরসনে রেললাইনের ওপর ওভারপাস নির্মাণ, করতোয়া নদীর পুনর্জীবন এবং তিনমাথা এলাকায় আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়ামসহ ক্রীড়াগ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। বগুড়া চেম্বারের সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, মোশারফ হোসেন, মোরশেদ মিল্টন ও আব্দুল মুহিত তালুকদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।



