নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই বিপ্লবের অঙ্গীকার ও গণভোটের রায় উপেক্ষা করলে বর্তমান সরকার ও সংসদের নৈতিক ও আইনি বৈধতা থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা। তারা বলেন, বর্তমান সরকার গণ-অভ্যুত্থানের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাই রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেস কাবে ‘সেন্টার ফর পলিসি অ্যানালাইসিস অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি’ (সিপিএএ) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলা হয়।
‘নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশ : গণভোটের অঙ্গীকার, জুলাই সনদ এবং সংস্কার প্রস্তাবসমূহের বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সিপিএএ প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সচিব ড. মো: শরিফুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের আকাক্সাকে দমন করতে আদালতের আশ্রয় নেয়া হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে বাদ দিয়ে বর্তমান সংসদের বৈধতা বজায় রাখা সম্ভব নয়। ১৯৯৬ ও ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পরিবর্তনের ব্যর্থ চেষ্টার উদাহরণ টেনে তারা বলেন, অতীতের সেই ভুলের কারণে জাতি রাজনৈতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল। তাই বর্তমান সরকারকে খোলামনে সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
বৈঠকে সংসদের বিরোধী দলের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সক্রিয় না হয়ে বিরোধী দলের কোনো সদস্যের ডেপুটি স্পিকারের পদ গ্রহণ করা উচিত হবে না। একই সাথে সরকারি দলের সদস্যদেরও সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সিনিয়র সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম, সাবেক সচিব আবদুল কাইউম, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. আব্দুর রব, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) হাসান নাসির এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা।



