২৪৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

ডিসি অফিসের উমেদার মান্নান ও তার স্ত্রীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের সাবেক উমেদার আব্দুল মান্নান তালুকদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২৪৫ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক উমেদার মান্নানের স্ত্রী জেসমিন নাহার, তার সহযোগী আনিসুর রহমান ও সালেহা বেগম।

সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, সংস্থাটির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের এক কর্মকর্তা বাদি হয়ে বুধবার বাগেরহাট সদর থানায় একটি মামলা করেছেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট লিমিটেড’ নামীয় প্রতিষ্ঠানে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ১৯ হাজার ৯৬৭ জন সাধারণ বিনিয়োগকারীর সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ২৪৫ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা আমানত গ্রহণের নামে হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ হাজার টাকা থেকে যেকোনো পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগে চার-পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দেয়; কিন্তু সেই টাকা আবাসন ব্যবসায় না লাগিয়ে মান্নান তার নিজের মালিকানাধীন ‘সাবিল গ্রুপ’-এর ছয়টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করেন।

এ প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- অ্যাজাক্স জুট মিলস লিমিটেড (খুলনা), সাবিল ড্রেজিং অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (বাগেরহাট), সাবিল জেনারেল হাসপাতাল (পিরোজপুর), সাবিল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (বাগেরহাট), সাবিল এল প্লাজা ও সাবিল মৎস্য প্রকল্প (বাগেরহাট)।

সিআইডি জানায়, মান্নান ১৯৮৪ থেকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরি করেন এবং ২০১০ সালে অবসরে যান। চাকরিজীবনেই জমি কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন। পরে অবসর নিয়ে ‘নিউ বসুন্ধরা রিয়েল এস্টেট’ নামের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এবং ‘মানুষ মানুষের জন্য’ স্লোগান ব্যবহার করে আমানত গ্রহণ কার্যক্রম চালান।

সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে। মামলার তদন্ত এখন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অধীনে চলছে। অভিযুক্তদের অর্থ লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য, সহযোগীদের নাম এবং অর্থের গন্তব্য শনাক্তে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।