ক্রীড়া প্রতিবেদক
দুই শক্তিশালী দলের কাছে উভয় ম্যাচেই হার। চীনের কাছে ০-২ গোলে হারের পর উত্তর কোরিয়ার কাছে ০-৫ গোলে পরাজিত হওয়া। দুই ম্যাচে এই সাত গোল হজমই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের জন্য। সে সাথে গতকাল ‘এ’ গ্রুপে ইরানের বিপক্ষে ফিলিপাইনের ২-০ গোলের জয় আরো অনিশ্চয়তা বাইড়য়েছে আফঈদা খন্দকারদের। ফলে নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে তিন গ্রুপের তৃতীয় হওয়া তিন দলের মধ্যে সেরা দুইয়ে থাকার জন্য আজ শুধু জিতলেই হবে না পিটার জেমস বাটলার বাহিনীর। লাল-সবুজরা কত বড় ব্যবধানে জিততে পারবে সেটি একটি বিষয়। সে সাথে আগামীকাল ‘সি’ গ্রুপে জাপানের কাছে ভিয়েতনাম কত গোলে হার এবং ভারত ও চাইনিজ তাইপের ম্যাচের ফলাফল কি হয় সে দিকেও তাকিয়ে থাকতে হবে। এই হিসাব নিকাশের মধ্যেই আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় পার্থের র্যাক ট্যাঙ্গুয়ার স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বাংলাদেশের। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৪৯ এ থাকা মধ্য এশিয়ান এই নারী দলের বিপক্ষে এই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ এবং উজবেকিস্তান উভয় দলের জন্যই কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। এ জন্য জয়ের বিকল্প নেই কোনো দলেরই। উজবেকিস্তান গোল পার্থক্য এগিয়ে। তাদের গোল পার্থক্য-৬। বাংলাদেশের-৭। ফলে ম্যাচটি ড্র হলেই আরো অগ্রবর্তী অবস্থানে চলে যাবে উজবেকরা। আর বাংলাদেশের আশা শেষ। মনিকা, মারিয়া, মিলি আক্তারদের হাতে উপায় একটাই বড় ব্যবধানে জেতা। যদি তারা ৬-০তে উজবেকদের হারাতে পারে তাহলে গোল পার্থক্য হবে-১। তাতে ফিলিপাইনকে টপকে বাংলাদেশ চলে যাবে কোয়ার্টার ফাইনালে। তা না হলে তাকিয়ে থাকতে হবে জাপান- ভিয়েতনাম এবং ভারত ও চাইনিজ তাইপের ম্যাচের দিকে। ভিয়েতনামের পয়েন্ট ৩। তাদের গোল পার্থক্য ০। তারা যদি জাপানের কাছে ০-৭ গোলে হারে এবং ভারত যদি চাইনিজ তাইপের সাথে ড্র করে বা তাইপের কাছে হেরে যায় এবং বাংলাদেশ যদি ১-০ গোলে জিতে উজবেকিস্তানের সাথে তাহলেই চলবে। গোল পার্থক্যে ভিয়েতনামকে হারিয়ে কোয়ালিফাই করবে ২০২৮ অলিম্পিক গেমসে। উল্লেখ্য, ভারতের কোনো পয়েন্ট নেই। তাইপের পয়েন্ট ৩।
এখন প্রশ্ন বাংলাদেশকে জিততে পারবে শক্তপোক্ত গড়নের এবং দীর্ঘদেহী উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। উজবেকিস্তান ০-৩ গোলে হেরেছিল চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে। ফিফা র্যাংকিংয়ে তাদের চেয়ে বাংলাদেশ ৬৩ ধাপ পিছিয়ে। অবশ্য র্যাংকিং কোনো বিষয়ই নয়। যা মিয়ানমারের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে জিতে প্রমাণ করেছিল আফঈদা খন্দকাররা।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার বলেন, ‘আমি মনে করি যেভাবে খেলার চেষ্টা করছি, সে বিষয়ে আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। মেয়েরা ভুল করবে; কিন্তু তারা নতুন কিছু করার চেষ্টা করবে। যতক্ষণ তারা গেমপ্ল্যান অনুযায়ী খেলছে এবং আমাদের কাজের ধরন বা নিয়মগুলো মেনে চলছে। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাস্তববাদী থাকতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো হার বা জিত যাই হোক না কেন তারা যেভাবে অংশগ্রহণ করছে, কঠোর পরিশ্রম করছে এবং নিজেদের সামলে নিচ্ছে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
যোগ করেন, ‘এই মেয়েরা যেভাবে কাজগুলো করছে তা অবশ্যই সম্মানের যোগ্য। তারা একটি চমৎকার টুর্নামেন্ট কাটিয়েছে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া হলো মেয়েদের পেশাদারিত্ব । এখন তা বজায় রাখতে উৎসাহিত করা। তারা এখান থেকে যা শিখবে, দেশে ফিরে তা কাজে লাগাতে পারবে এটাই ভবিষ্যতে তাদের অনেক দূর নিয়ে যাবে।’
বাংলাদেশ দলকে প্রশংসা করতেও ভুল করেননি উজবেকিস্তানের লিথুনিয়ান কোচ কোত্রিনা কুলবাইত। তিনি বলেছেন, ‘দুই দলই প্রথম দুই ম্যাচে হেরেছে। আমরা শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলেছি, তাই আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য কী। বাংলাদেশ সম্পর্কে বলতে পারি তারা একটি গতিশীল দল। মাঠের পারফরম্যান্সে তারা বেশ বিনয়ী। আমি তাদের খেলা দেখেছি, তাদের কিছু দ্রুতগতির খেলোয়াড় আছে, বিশেষ করে আক্রমণভাগে। আমাদের জন্য এটি সহজ ম্যাচ হবে না, কারণ এশিয়ান কাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। আমাদের লক্ষ্যের কথা বললে, অবশ্যই আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামব।’



