বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পল্লী জীবিকায়ন কর্মসূচির কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।
রোববার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রতিনিধি দল উপদেষ্টাকে কর্মসূচির ইতিবৃত্ত এবং বর্তমান বাস্তবতা তুলে ধরেন। তারা জানান, ১৯৮৩ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের সময় দেশের পল্লী অঞ্চলের স্বল্প আয়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে বিআরডিবির অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়। এই প্রকল্প পরবর্তীতে পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প ও পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (২য় ও ৩য় পর্যায়) নামে বিস্তৃত হয়।
প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটির জনবলকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রকল্পটিকে রাজনৈতিক কারণে স্থায়ী চাকরির পরিবর্তে চলমান কর্মসূচি হিসেবে পরিচালনা করা হয়। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই চাকরির বয়স শেষ করে হতাশা ও টেনশনে মারা গেছেন, আবার কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।
প্রতিনিধিরা দাবি করেন, দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী করার মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া তারা বিআরডিবির রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত করা অথবা আলাদা ফাউন্ডেশন গঠনের মাধ্যমে তাদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবি জানান।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন যে, বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পজীব কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের আহ্বায়ক ও বিআরডিবি কর্মচারী ইউনিয়ন বি-১৯২৫, সিবিএ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নান শেখ, কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক রবিউল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা মো: নূরুল ইসলাম, কাজী আব্দুস সোবহান, উপপ্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ সিদ্দিকী, মাঠ সংগঠক মো: কোরবান আলী, নাজমা আক্তার, মো: শরীফ হোসেন সহ আরো অনেকে।



