সুমন আহমেদ মতলব উত্তর (চাঁদপুর)
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেই চিকিৎসক ও ওষুধের সঙ্কট চলছে। চিকিৎসকের পদ শূন্য থাকায় পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাদের মৌখিক পরামর্শের ওপর নির্ভর করেই চলছে এসব কেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবা। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রামীণ এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ।
উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১৫টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কেন্দ্রে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও কোনো কেন্দ্রেই এ পদে কেউ কর্মরত নেই। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ১৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২ জন। মাঠপর্যায়ে সহকারী পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার ৮২টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ৫২ জন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে এসব কেন্দ্রে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ করা হয় না। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বড় অংশকেই ওষুধ ছাড়াই ফিরে যেতে হয়।
সম্প্রতি উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকজন নারী চিকিৎসা নিতে এসেছেন। দায়িত্বরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মাহফুজা আক্তার তাদের সাথে কথা বলছেন, সমস্যার কথা শুনে মৌখিক পরামর্শ দিচ্ছেন। ওষুধ না থাকায় তাদের অন্যত্র চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা মমতাজ বেগম (৩৩), রোজিনা খাতুন (৩২), রোকছানা বেগম (৪৮) ও কুহিনুর বেগম বলেন, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে তারা চিকিৎসক পাননি। একজন পরিদর্শিকা তাদের সমস্যার কথা শুনে শুধু মৌখিকভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের প্রয়োজন ওষুধ; কিন্তু কেন্দ্রটিতে তা নেই।
বাগানবাড়ী ইউনিয়নের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বিউটি রানী বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০-৫০ জন নারী ও শিশু সেবা নিতে আসেন। একজনের পক্ষে এত রোগী সামলানো কঠিন। ওষুধ না থাকায় তাদের শুধু পরামর্শ দিয়েই ফেরাতে হচ্ছে। একজন চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হলে সেবার মান বাড়ত।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, পদায়ন না থাকায় চিকিৎসকের পদগুলো শূন্য রয়েছে। ওষুধ সরবরাহের চুক্তির অনুমোদন দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকায় নতুন করে ওষুধও পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে।
চাঁদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, ৫ আগস্টের পর ওষুধ কেনাকাটা ও সরবরাহ বন্ধ থাকায় সঙ্কট তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে এবার পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকায় শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, নিয়োগ বিধিতে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের পদ অন্তর্ভুক্ত না থাকায় নিয়োগ বন্ধ ছিল। বিধিমালা সংশোধনের কাজ শেষ পর্যায়ে, তা সম্পন্ন হলেই শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে।


