গাজীপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর মাদারীপুরে মিলল যুবকের কঙ্কাল

Printed Edition

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়ার ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) নামের এক পোশাক শ্রমিকের হত্যারহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নিহতের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম (২৬) ও শাহীন আলম (২৭)। রবিউল নিহত সৌরভের ভগ্নিপতি। পুলিশ জানায়, তারা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এ হত্যাকাণ্ডে আরো দুইজন জড়িত রয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার মাদারীপুরের রাজৈর থানার উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরনের পোশাক উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জিএমপির সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

নিহত সৌরভ জামালপুর জেলার বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর এলাকায় ভাড়া থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। গত ৩ আগস্ট তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছা: কাকলী বেগম সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির তদন্তভার পাওয়া উপপরিদর্শক (এসআই) দীপঙ্কর দত্ত অনুসন্ধানে বেশ কিছু রহস্যজনক তথ্যের হদিস পান। এরপর ওসি আমিনুল ইসলাম ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে নেমে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত বিভিন্ন সূত্র যাচাই করে শনাক্ত করা হয় সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান। এরপর তার মা বাদি হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় পুলিশ মাদারীপুর ও সাতক্ষীরায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া শাহীন আলমকে মাদারীপুরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পর্কের চরম টানাপড়েন থেকে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের বোন নুপুরের সাথে রবিউল ইসলামের বিয়ে হয়, যাদের একটি সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সাথে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সাথে চলে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রবিউল তার শ্যালক সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আট হাজার টাকার বিনিময়ে শাহীনকে ভাড়া করেন রবিউল। গত ৩ আগস্ট কৌশলে সৌরভকে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সে রাতে রাজৈর থানার একটি ডোবার কাছে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয় এবং লাশ গুম করতে মরদেহ টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয়।

জিএমপি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেফতার আসামিরা পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে মোট চারজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে এবং বাকি দুইজনকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।