সমুদ্রের পুরনো বোটে বাণিজ্যের জোয়ার

সীতাকুণ্ডে গড়ে উঠেছে বোটের পাইকারি বাজার

Printed Edition
সীতাকুণ্ডে গড়ে উঠেছে  বোটের পাইকারি বাজার
সীতাকুণ্ডে গড়ে উঠেছে বোটের পাইকারি বাজার

নজরুল ইসলাম সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড যেন বোটের এক বিশাল মেলা। শিপব্রেকিং ইয়ার্ড থেকে উঠে আসা সমুদ্রের পুরনো বোটগুলো এখানকার পাইকারি বাজার হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে। উপকূলীয় ২০টি জেলার জেলে, ওয়াটার পার্ক আর প্রাকৃতিক লেকের ব্যবস্থাপকদের কাছে এসব বোট এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। কারণ কাঠ বা লোহার নৌকার তুলনায় এগুলো কিছুটা সস্তা ও নিরাপদ। সম্প্রতি এই বোটের চাহিদা বেড়েছে এমনভাবে যে, পুরনো জাহাজ থেকে সংগ্রহ করা প্রতিটি বোটই যেন নতুন সম্ভাবনার বার্তা এনে দিচ্ছে।

সীতাকুণ্ডের মাদাম বিবিরহাট, মদনহাট ও ভাটিয়ারী স্টেশনসংলগ্ন খাল আর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে এখন বোটের বিশাল পাইকারি আড্ডা। বিদেশী জাহাজ থেকে নামানো নানা রকমের শত শত বোট সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাজারে। ফাইবার আর অন্যান্য উপাদানে তৈরি ছোট, মাঝারি ও বড়- কমবেশি সব সাইজের বোটই মিলে এখানে। দামও আশ্চর্যজনকভাবে কম- মাত্র ২৫ থেকে ৬০ হাজার টাকায় কেনা যায় এক একটি বোট। যা দুই বছর আগেও ছিল প্রায় দ্বিগুণ দাম।

জানা যায়, ফৌজদারহাট থেকে ছোট কুমিরা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আছে ১২০টি শিপব্রেকিং ইয়ার্ড। প্রতিটি জাহাজে থাকে ১০ থেকে ১৫টি বোট। কোনোটি ইঞ্জিনচালিত, কোনোটি ইঞ্জিন ছাড়া। বোট কিনে এক জায়গায় জড়ো করা হয়। এরপর সেগুলো খুচরা কিংবা পাইকারি দরে বিক্রি করেন কিছু উদ্যোক্তা। চাঁদপুরের বোট ব্যবসায়ী জানে আলম জানান, হাওর, নদী, সাগর বা বড় দীঘি- সবখানেই এই বোটের কদর। বিশেষ করে নোয়াখালী, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও খুলনার জেলেরা নিয়মিত বোট কিনেন।

কুয়াকাটার জেলে সর্দার বালি জলদাস বলেন, ‘এ বোটে নিজের পছন্দমতো ইঞ্জিন লাগিয়ে দূর সাগর কিংবা নদীতে মাছ ধরাটা খুবই নিরাপদ এবং সহজ।’ শুধু মাছ ধরাই নয়, নদী পারাপার বা পর্যটক বিনোদনের জন্যও এই বোট ব্যবহার করা হয়। জাফলং থেকে আসা নুরে আলম জানান, সীতাকুণ্ড ছাড়া আর কোথাও এত ভালো এবং সস্তায় বোট পাওয়া যায় না। তিনি লেকে পর্যটকদের ভাড়া দেয়ার জন্য বোট কিনতে এসেছেন।

এক বোট ব্যবসায়ী জানান, পুরনো জাহাজের বোটে এখন সীতাকুণ্ডের পাইকারি বাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। একদিকে যেমন কম খরচ, অন্যদিকে নিরাপত্তা আর সহজলভ্যতা- এই তিন গুণেই যেন জয় করে নিয়েছে দেশের জলপথ।