নির্বাচন মনিটরিংয়ে বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চলমান সংস্কারকার্যক্রম, আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থনের বার্তা আরো স্পষ্ট হচ্ছে। আসন্ন গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশের এ নির্বাচন মনিটরিং করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রক্রিয়ায় একটি টিম ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মাইকেল মিলার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজের সাথে বৈঠকে এসব কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে অব্যাহত থাকবে।

এ সময় অধ্যপক আলী রীয়াজ বাংলাদেশের গণভোট ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আসন্ন গণভোটের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

এর আগে একই দিন সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত জুলাই সনদ প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করবে এবং সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবে। এই সনদে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের সাথে বৈষম্য করবে না; বরং নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে।

আলী রীয়াজ বলেন, একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক স্বদেশ গড়ার স্বপ্নে জাতিকে রক্তাক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে যে সুবর্ণ সুযোগ এসেছে, তা আর হারানোর অবকাশ নেই। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের নিষ্পেষণে জর্জরিত রাষ্ট্রকে উদ্ধার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং ব্যাপক সংস্কার জরুরি, আর সেই সংস্কারের পথ প্রশস্ত করতেই আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলা সময়ের দাবি।

সংবিধানের ৭(ক) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ হলেও এতদিন জনগণকেই কার্যত ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। বিবেকের তাড়নায় গণভোটে অংশগ্রহণ করা জরুরি, যেন ভবিষ্যতের বাংলাদেশ অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। গণভোটে বিজয়ের মধ্য দিয়েই কাক্সিক্ষত রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের সুযোগ তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রসঙ্গে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছাই ছিল কার্যত সব সিদ্ধান্তের কেন্দ্র্রবিন্দু। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত হলেও বাস্তবে নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্মকমিশন ও বিচার বিভাগে নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সরকারপ্রধানের ইচ্ছানুসারেই হয়ে এসেছে। সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ সম্পর্কে তিনি বলেন, এই বিধান সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের পথে বড় বাধা। নিজ দলের এমপিদের মুখে যেন স্কচটেপ এঁটে দেয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত সংস্কারে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রদানের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল চেতনা-সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধ-সম্মানের সাথে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে সংবিধানে ধর্মীয় মূল্যবোধ থাকবে না- এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বোগাস। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় কান না দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরো বক্তব্য দেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: কামাল উদ্দিন এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব দেবেন্দ্র নাথ ওরাও।