পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের বড় উন্নতি

বিএসইসি কমিশনার হলেন হোসেন সাদাত

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পুঁজিবাজারে সূচক ও লেনদেনের উন্নতি ঘটেছে। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারই বড় কোনো বিক্রয়চাপের মুখে পড়েনি। লেনদেনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেকটা সাবলীলভাবেই পার করে। সোমবারের মতো প্রায় সব খাতেই মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ফলে এদিন লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নতি ঘটে লেনদেনেরও। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর আগে তিনদিন ধারাবাহিক সংশোধনের পর এ ধরনের বাজার আচরণ খুবই স্বাভাবিক। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখাটাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্সর গতকাল ৬০ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট উন্নতি ঘটে। সকালে পাঁচ হাজার ৮৩৯ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি গতকাল দিনশেষে পৌছে যায় পাঁচ হাজার ৯০০ দশমিক ২৬ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৯৩ ও ১২ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট। অনুরূপভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ১৩৪ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয় গতকাল। ১৫ হাজার ৬০৪ দশমিক ১৪ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে ১৫ হাজার ৭৩৮ দশমিক ৪৯ পয়েন্টে স্থির হয়। এখানে দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ৬৭ দশমিক ২৩ ও ৭৮ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট।

সূচকের পাশাপাশি বাজারগুলোতে লেনদেনের ও বড় ধরনের উন্নতি ঘটে গতকাল। ডিএসই এদিন এক হাজার ২৬০ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে যা আগের দিনের চাইতে ৩৮৮ কোটি টাকা বেশি। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৮৭২ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজার গতকাল লেনদেন নিষ্পত্তি করে ৬৪ কোটি টাকার যা আগের দিন অপেক্ষা ৪৮ কোটি টাকা বেশি। সোমবার সিএসইর লেনদেন ছিল ১৬ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা দিনের বাজার আচরণকে ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন। তাদের মতে, সংশোধনের মাধ্যমে পুঁজিবাজার নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পায়। এর আগে তিনদিনের সংশোধন বাজারে যে শক্তি যুগিয়েছে তার সুফল পেল গত দু’দিন। বিনিয়োগকারীরা সচেতনভাবে বিনিয়োগ করলে তারা তাদের কাক্সিক্ষত মুনাফা পাবেন। কারণ এখনো ভালো ভালো কোম্পানিগুলোর মূল্যস্তর অনেক নিচে রয়েছে। মৌলভিত্তিসম্পন্ন এসব কোম্পানি বিনিয়োগকারিদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত লোকসান কমিয়ে আনতে পারে। বিপরীতে দ্রুত লাভবান হওয়ার চেষ্টায় ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ বাজারের শৃঙ্খলা নষ্ট করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

এ দিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন হোসেন সাদাত। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখার উপসচিব ফারজানা জাহান স্বাক্ষরিত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়েছে। কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছরের জন্য তাকে কমিশনার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগের শর্তানুযায়ী নতুন কমিশনারকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে বিদ্যমান কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে। এ ছাড়া তার বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

হোসেন সাদাত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার মধ্য দিয়ে বিএসইসির পরিচালনা কোরাম পূর্ণতা পেল। উল্লেখ্য, কমিশনের আইনি কোরাম একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত।

জানা গেছে, হোসেন সাদাত এফসিএস বর্তমানে ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট, করপোরেট সেক্রেটারিজ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন এবং ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের বোর্ড ও কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

টেলিযোগাযোগ, তেল ও গ্যাস এবং নিরীক্ষা ও নিরীক্ষা-নিশ্চয়তা (অডিট ও অ্যাশিউরেন্স) খাতে তার প্রায় তিন দশকের কর্ম-অভিজ্ঞতা রয়েছে। কর্মজীবনে তিনি গ্রামীণফোন, শেল অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, কেয়ার্ন এনার্জি এবং কেপিএমজি রহমান রহমান হকে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

করপোরেট সুশাসন, নিয়ন্ত্রক কৌশল, টেকসই উন্নয়ন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং করপোরেট যোগাযোগ বিষয়ে তার উল্লেখযোগ্য জ্ঞান ও দক্ষতা রয়েছে। হোসেন সাদাত একজন ফেলো চার্টার্ড সেক্রেটারি (এফসিএস)। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডন বিজনেস স্কুল থেকে নির্বাহী পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ (এক্সিকিউটিভ এডুকেশন) সম্পন্ন করেছেন।

গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস। ৬৯ কোটি ২০ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৮১ লাখ ৬৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় এদিন। ৪৭ কোটি ১৯ লাখ টাকায় দুই কোটি সাত লাখ ২৯ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে সায়হাম কটন মিলস উঠে আসে দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে আইটিসি, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ইন্দুবাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, আরগন ডেনিমস, সিটি ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, এমএল ডাইং ও ফারইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং।

ডিএসইতে মূল্যবৃদ্ধির তালিকায় উঠে আসা কোম্পানির শীর্ষে ছিল টেক্সটাইল খাতের আরগন ডেনিমস। কোম্পানিটির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস। ম্যূল্যবৃদ্ধিতে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে একমি পেস্টিসাইড, সায়হাম টেক্সটাইলস, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সায়হাম কঠন মিলস, এনসিসিবি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, কুইন সাউথ টেক্সটাইলস, দেশ গার্মেন্টস ও মতিন স্পিনিং।