১৭ কোটি টাকার হাসপাতাল অচল ২০ শয্যা হলেও নেই একটি বেড

Printed Edition
১৭ কোটি টাকার হাসপাতাল অচল ২০ শয্যা হলেও নেই একটি বেড
১৭ কোটি টাকার হাসপাতাল অচল ২০ শয্যা হলেও নেই একটি বেড

মনির আকন মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার টিয়ারখালী ২০ শয্যা হাসপাতালটি উদ্বোধনের দীর্ঘ পাঁচ বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ১৭ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক হাসপাতালে নামে ‘২০ শয্যা’ থাকলেও বাস্তবে চিকিৎসার জন্য একটি শয্যারও অস্তিত্ব নেই। চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় জনবল এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে হাসপাতালটি এখন সম্পূর্ণ অচল পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিনের অব্যবহার ও অবহেলায় ভবনের বিভিন্ন মূল্যবান অংশ নষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরে অবাধে গবাদিপশু চরছে এবং ভবনের সিঁড়িতে পড়ে আছে ছাগলের মলমূত্র।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটক খোলা থাকলেও দোতলা ভবনের কোথাও কোনো রোগীর উপস্থিতি নেই। হাসপাতালের অধিকাংশ কক্ষই ফাঁকা পড়ে রয়েছে এবং চারপাশ ধুলাবালিতে ঢেকে গেছে। এক্স-রে কিংবা ইসিজিসহ প্রয়োজনীয় কোনো চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার বা কোনো অস্তিত্বই চোখে পড়েনি। কেবল একটি কক্ষে একজন নার্সকে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে আসা কয়েকজন রোগীকে বিনামূল্যে কিছু ওষুধ দিতে দেখা গেছে। তবে হাসপাতালের কোথাও নিয়মিত ও স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবার ন্যূনতম পরিবেশ দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সংসদ সদস্য ডা: মো: রুস্তম আলী ফরাজী হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু এরপর আর এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালটি অধিকাংশ সময় বন্ধই থাকে। ফলে এই অঞ্চলের অসুস্থ রোগীদের বাধ্য হয়ে চরম ভোগান্তি নিয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা বরিশাল সদরের হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি এখন যেন এক পরিত্যক্ত জঙ্গলবাড়ি।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দু’টি আধুনিক স্টাফ কোয়ার্টারসহ হাসপাতালের মূল ভবন নির্মাণে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় হলেও অনুমোদিত পদের বিপরীতে জনবল নেই বললেই চলে। হাসপাতালটির জন্য চারজন জুনিয়র কনসালটেন্ট, একজন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার, একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার সৌমিত্র সিনহা বলেন, উদ্বোধনের পর মূলত তীব্র জনবল সঙ্কটের কারণে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়নি। বর্তমানে তিনজন নার্স ও দু’জন চিকিৎসকের মাধ্যমে সীমিত পরিসরে শুধু প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। এখনো হাসপাতালের অর্থনৈতিক কোড চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও সরকারি বরাদ্দ পেলে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে।