শেষ হলো নির্বাচনের প্রচারণা, ভোটের অপেক্ষায় দেশ

কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ (তিন) সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করবেন।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

প্রতীক বরাদ্দের পর টানা ২০ দিনের নির্বাচনী প্রচারণা আজ সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা আজ সকাল সাড়ে ৭টার পর করা যাবে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রার্থীদের সব ধরনের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রাখার বিধান রয়েছে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে এখন ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি।

ইসির রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তৎকর্তৃক মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের ৩ (তিন) সপ্তাহ সময়ের আগে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না এবং ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সারা দেশে ২৯৯ আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করেছে ইসি। এ কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ইসির তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। মোট প্রার্থী দুই হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫৮ জন প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২২৯ জন প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ১৯৮ জন প্রার্থী। অপর দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলাকলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন ৩২ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ৭৬ জন ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রচার প্রচারণা বন্ধ হবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায়। নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে।

ড্রোন নজরদারিতে ভোট : ইসিতে মিলবে লাইভফিড

ভোটে যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণে ড্রোন নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে তারা। ভোটের মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণে বিমান বাহিনীর ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এই লাইভফিড সরাসরি যুক্ত থাকবে ইসি সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার দফতরে। সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নিজ নিজ ড্রোন মোতায়েন করে ভোটের মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো: শহীদুল ইসলাম ইতোমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র‌্যাবের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দেয়ার জন্য পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন।

ড্রোন প্রযুক্তির এই ব্যবহার নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো সহিংসতা বা অনিয়ম রোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ড্রোন নজরদারিতে থাকবে। ইসিতে মিলবে লাইভফিড এবং সাথে প্রধান উপদেষ্টার দফতরও।

ওই চিঠিতে যা বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তবে জাতীয় নির্বাচনের মতো বড় কর্মযজ্ঞে যেকোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এরূপ পরিস্থিতিতে স্বল্পতম সময়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অবস্থা নির্ণয়, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি অত্যন্ত সহায়ক হবে বলে মনে করছে ইসি।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচন ও গণভোট সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘেœ সম্পাদনের স্বার্থে বিমান বাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবি নিজ নিজ ড্রোন মোতায়েন করবে। এসব ড্রোনের ‘লাইভ ফিড’ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। বিশেষ করে, বিমান বাহিনীর ড্রোনের লাইভফিড ইসির পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভোটহার ও আইনশৃঙ্খলা তথ্য ২ ঘণ্টা অন্তর জানাতে হবে : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটগ্রহণের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর ভোট দেয়ার হার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো: শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

ইসির পরিপত্র অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের দিন সকাল সাড়ে ৭টায় থেকে শুরু করে বেসরকারি ফল না পাওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে ভোটগ্রহণ চলাকালে নির্বাচনী পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর ভোট দেয়ার হার, ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার থেকে প্রাপ্ত ভোট গণনার বিবরণী পাঠাতে হবে। এবারের নির্বাচনে ফল দ্রুত ও নির্ভুুলভাবে আদান-প্রদানের জন্য ঊগঝ (ঊষবপঃরড়হ গধহধমবসবহঃ ঝুংঃবস) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। সহকারী রিটার্নিং অফিসাররা তাদের নির্ধারিত কেন্দ্রের ফল এন্ট্রির জন্য দু’জন করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করবেন। এ অপারেটররা কেন্দ্রভিত্তিক ফল (ফরম-১৬) স্ক্যান ও আপলোড করবেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি কোনো পোস্টাল ভোট না-ও পান, তবুও ফলাফলে তা ‘শূন্য’ (০) লিখে এন্ট্রি করতে হবে। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সময় পোস্টাল ভোটের হিসাব পদ্ধতিগতভাবে একীভূত করে ফরম-১৮তে সন্নিবেশ করতে হবে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ফলাফল গেজেটে প্রকাশের সুবিধার্থে একীভূত ফলাফল বিবরণী (ফরম-১৮) ও নির্বাচনের রিটার্নসহ (ফরম-১৯) প্রয়োজনীয় নথিপত্র আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনে হার্ড কপি ও সফট কপি আকারে পাঠাতে হবে।