নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জে গুলিতে নিহত শুভর লাশ নিয়ে বাবা হরিপদ দাস ও মা আয়েশা আক্তারের টানাটানি শুরু হয়েছে। শুভর মা হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হয়ে আয়েশা আক্তার নাম রেখে অন্যত্র সংসার করছেন। শুক্রবার রাতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীদের গুলিতে খুন হয় শুভ। লাশের ময়নাতদন্তের পর দাফন করার জন্য মা আয়েশা মাসদাইর কবর স্থানে নিয়ে যান। খবর পেয়ে বাবা হরিপদ দাস তার ছেলে শুভর লাশ দাফন না করে দাহ করার দাবি তোলেন। একপর্যায়ে শুভর লাশ নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় নিয়ে আসা হয়। শনিবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা বৈঠকে বসেছেন।
সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত যুবক শুভ দাসের লাশ নিয়ে এক দিকে যখন দাফনের প্রস্তুতি চলছিল, অন্য দিকে তখন ছেলের শেষকৃত্য হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী করার দাবিতে থানায় ছুটে বেড়াচ্ছিলেন বাবা হরিপদ দাস। মা ও বাবার ভিন্ন সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত নিহতের শেষকৃত্য নিয়ে তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটসংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শুভ দাসের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের বুকে গুলির চিহ্ন ছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত শুভ হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন। নিহত শুভ দাস চাঁদপুরের মতলব থানার মতলব বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানিয়েছেন, শুভ দাসের বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির অভিযোগে চার থেকে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। লাশ তল্লাশি করে কিছু ইয়াবাও উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মাদক কারবার নিয়ে বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ধর্মীয় বিষয়টি বিবেচনা করে নিহতের লাশ সদর থানায় আনার পর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছাড়াও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে থানায় বৈঠক করছেন বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কাজল মিয়া।



