বৃষ্টি এলেই ঝুঁকিতে লালমোহনের শতাধিক ভূমিহীন পরিবার

Printed Edition
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে : নয়া দিগন্ত
আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে : নয়া দিগন্ত

মাকসুদুর রহমান পারভেজ লালমোহন (ভোলা)

আকাশে মেঘ জমলেই উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় পড়ে যায় ভোলার লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ন (গুচ্ছগ্রাম) আবাসনের বাসিন্দারা। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়া ঘরগুলোর ছাদ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে। ফলে কষ্টার্জিত আসবাবপত্র রক্ষা করতে রাতভর জেগে থাকতে হয় তাদের। পাশাপাশি নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশনের অভাবে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিও।

সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ, নজির মিয়া বাড়ি-সংলগ্ন আবাসন, উত্তর প্যায়ারীমোহনের সোনালী আবাসন, ধলীগৌরনগরের চতলা বাজার-সংলগ্ন আবাসন, উত্তর চতলার মহাজন আবাসন এবং রমাগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ রায়চাঁদের দু’টি আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই বর্তমানে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার ছাউনির ওপর পলিথিন টাঙিয়ে কোনোভাবে বৃষ্টির পানি ঠেকানোর চেষ্টা করছে। তবে ঝড়ো বাতাসে সেই পলিথিনও উড়ে যায়। তখন ছাউনি থেকে পানি পড়ে নষ্ট হয় ঘরের আসবাব ও বিছানা।

আবাসনের বাসিন্দা আবুল কালাম, আরিফ, হোসনেয়ারা, লাইজু, ইউসুফ ও জামাল বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। ঋণ করে কেউ কেউ নিজেরা সামান্য মেরামত করলেও সেটি স্থায়ী সমাধান নয়। বর্ষা এলেই আতঙ্কে দিন কাটে তাদের।

ভূমিহীন বাসিন্দা জামাল বলেন, কয়েক দফা সরকারি কর্মকর্তারা এসে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের ছবি তুলে নিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সংস্কার হয়নি। তারা সরকারি উদ্যোগে দ্রুত ঘরগুলো মেরামতের দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় এসব আবাসন নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ঘরে তেমন কোনো সংস্কার হয়নি। কিছু স্থানে মেরামতের দাবি করা হলেও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাস্তবে তার তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।

এদিকে দক্ষিণ রায়চাঁদ আবাসনের পাশে বসবাসকারী জসীম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবাসনের দু’টি ঘর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো: দিদারুল ইসলাম বলেন, দ্রুত সংস্কার না হলে চলতি বর্ষায় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরো বাড়বে। রমাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা মিয়া বলেন, আবাসনগুলোর সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দাবি, শাহাবাজপুর ও সোনালী আবাসনে আগে কিছু সংস্কারকাজ হয়েছিল।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পলাশ সমাদ্দার বলেন, জরাজীর্ণ ঘর সংস্কারের জন্য বর্তমানে কোনো বরাদ্দ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: সিফাত বিন সাদেক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আবাসনগুলো পরিদর্শন করে বেশি ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেয়া হবে।

স্থানীয়দের দাবি, আশ্রয়নের উদ্দেশ্য ছিল ভূমিহীন মানুষের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সেই আবাসনগুলোই এখন তাদের জন্য নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।