সাক্ষাৎকার : বিবিসি বাংলাকে তারেক রহমান

ভারত স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে বিরাগভাজন হলে আমাদের কিছু করার নাই

Printed Edition
সাক্ষাৎকার : বিবিসি বাংলাকে তারেক রহমান
সাক্ষাৎকার : বিবিসি বাংলাকে তারেক রহমান

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ভারত যদি স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। এটা বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের সাথে শীতল থাকবে। সো, আমাকে আমার দেশের মানুষের সাথে থাকতে হবে। তিনি বলেন, কূটনীতির ক্ষেত্রে বিএনপির মূলনীতি একটাই- সবার আগে বাংলাদেশ। আমার জনগণ, আমার দেশ, আমার সার্বভৌমত্ব। এটিকে অক্ষুণœ রেখে, এই স্বার্থকে অটুট রেখে বাকি সব কিছু।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া তার সাক্ষাৎকারটির শেষ পর্ব নয়া দিগন্তের পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

বিবিসি বাংলা : ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে আপনাদের নীতি কী হবে?

তারেক রহমান : সবার আগে বাংলাদেশ। আমি আগে আমার দেশের মানুষের স্বার্থ দেখব, আমার দেশের স্বার্থ দেখব।

বিবিসি বাংলা : ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত?

তারেক রহমান : অবশ্যই আমি আমার পানির হিস্যা চাই। অবশ্যই আমি দেখতে চাই না যে, আরেকজন ফেলানী ঝুলে আছে। অবশ্যই আমরা এটা মেনে নিবো না।

বিবিসি বাংলা : অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন?

তারেক রহমান : এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সফল হোক। মূলত কিছু সংস্কারসহ যে সংস্কারগুলো না করলেই নয়, এরকম সংস্কারসহ একটি স্বাভাবিক সুষ্ঠু, স্বাধীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত করাই হচ্ছে বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। উনারা উনাদের উপরে যেটা মূল দায়িত্ব, সেটি উনারা সঠিকভাবে সম্পাদন করবেন। তার উপরেই মনে হয় সম্পর্কের উষ্ণতা বা শীতলতা যেটাই বলেন, সেটা নির্ভর করবে।

বিবিসি বাংলা : অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে আপনার মনে কি সন্দেহ আছে?

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধান ডক্টর ইউনূস মোটামুটিভাবে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন এবং পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার উনি উনার যে সিদ্ধান্ত সেটির ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তার পর থেকে খুব স্বাভাবিকভাবেই এই সন্দেহটি বহু মানুষের মন থেকে ধীরে ধীরে চলে যেতে ধরেছে।

বিবিসি বাংলা : লন্ডনে বৈঠকের পর অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের সাথে কি আপনার কোনো কথা হয়েছে? কোনো চিন্তাভাবনা বা সমঝোতা কিছু হয়েছে?

তারেক রহমান : উনি আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন যে, জনগণ যদি আপনাদেরকে সুযোগ দেয়, তাহলে আপনারা কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য? এই বিষয়গুলো এবং আমার কিছু চিন্তাভাবনা দেশের মানুষকে নিয়ে, সেই বিষয়গুলো নিয়ে কিছু কিছু আলোচনা হয়েছে।

বিবিসি বাংলা : দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন?

তারেক রহমান : হয়তো উনারা চেষ্টা করেছেন অনেক বিষয়ে। সব ক্ষেত্রে সবাই তো আর সফল হতে পারে না, লিমিটেশন্স এর মধ্যে উনারা যতটুকু পেরেছেন হয়তো চেষ্টা করেছেন।

বিবিসি বাংলা : ১/১১ ঘিরে আপনার মূল্যায়নটা কী?

তারেক রহমান : এক এগারোর সরকার তো অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সরকার ছিল। আমরা দেখেছি যে, কিভাবে তারা সব কিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে চেয়েছিল, বিরাজনীতিকরণ করতে চেয়েছিল। দেশকে একটি অন্ধকারের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। পরবর্তীতে দেখেছি যে, খুব সম্ভবত তাদেরই ভিন্ন আরেকটি রূপ; অন্যভাবে দেখেছি আমরা ‘ইন দি নেম অব ডেমোক্র্যাসি’।

বিবিসি বাংলা : বিএনপির রাজনীতিতে আসলে কতটা পরিবর্তন হয়েছে; ভবিষ্যৎ বিএনপিই বা কেমন হবে?

তারেক রহমান : আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে, জনগণ, দেশ ও দেশের সার্বভৌমত্ব। আমরা দুটো বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে খুবই গর্ব করি, অহঙ্কার করি, একটি হচ্ছে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প, আরেকটি হচ্ছে প্রবাসীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে যে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠান- এই দুটোই কিন্তু বিএনপি শুরু করেছিল।

আর রাজনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা দেখি, একসময় সকল দলকে নিষিদ্ধ করে একটি দল বাকশাল করা হয়েছিল। আমরা দেখেছি যে, বিএনপির কাঁধে যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে, তখন কিভাবে আবার বহুদলীয় গণতন্ত্রের চালু করা হয়েছিল।

আমাদের অন্যতম মূল লক্ষ্য হবে গণতন্ত্রের একটি শক্তিশালী বুনিয়াদ তৈরি করা এবং জবাবদিহিতা তৈরি করা।

বিবিসি বাংলা : বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন যারা চেয়ারে বসে জবাবদিহিতার প্রশ্নটা তখন থাকে না, মানে এড়িয়ে যায়- সব রাজনৈতিক দল বা যারাই সরকারে এসেছে?

তারেক রহমান : অভিযোগটা কনসিডারেশনে (বিবেচনায়) অবশ্যই রাখবো। আমি সুযোগ পেলে যে সাথে সাথেই বিষয়টি হবে তা না। কারণ আমি সুযোগ পেলে আপনাকেও বুঝতে হবে। আপনিও কিন্তু দেশ গঠনের একটা পার্ট। কাজেই আপনার মত এরকম লাখো কোটি মানুষকে বিষয়টি বুঝতে হবে। এতটুকু বলতে পারি যে, ইয়েস, উই আর কমিটেড। উই উইল ট্রাই আওয়ার বেস্ট টু ডু পারফরম বেস্ট টু ডু দ্যাট।

বিবিসি বাংলা : গত ১৫ বছর আপনি নির্বাসনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এটা একটা ভিন্ন পরিস্থিতি। নেতৃত্ব নিয়ে আপনার চিন্তাধারায় কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে? আপনি কি অনুভব করেন, অনুধাবন করেন?

তারেক রহমান : গত ১৭ বছর প্রবাস জীবনে আছি এবং অনেকগুলো বছর আমি বাংলাদেশের সাথে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা টাইম ডিফারেন্স, ডিস্টেন্স ডিফারেন্স তো আছেই। রিচিং ডিফারেন্স তো একটা ডিফিকাল্টিস তো আছেই। এটি একটি বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আমি আমার পরিবার অর্থাৎ আমার স্ত্রী এবং আমার সন্তানকে এখানে ধন্যবাদ দিতে চাই। তাদের সহযোগিতা না থাকলে হয়তো এই ডিফিকাল্ট কাজটি করা আমার জন্য আরো ডিফিকাল্ট হতো। ওনাদের সহযোগিতা ছিল সে জন্য আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে।

একই সাথে আমি আবারো ধন্যবাদ দিতে চাই আমার হাজারো- লাখো নেতাকর্মীকে, যারা এই ডিফিকাল্টিজের মধ্যে থেকেও আমাকে সহযোগিতা করেছেন, দলকে সুসংগঠিত রাখতে, দলকে রাজপথে নিয়ে যেতে, শত অত্যাচার বাধাবিঘেœর মাঝেও জনগণের কথা তুলে ধরতে, জনগণের দাবির ব্যাপারে সোচ্চার থাকতে। আপনি জিজ্ঞেস করেছেন মনে হয় যে, এখান (যুক্তরাজ্য) থেকে কী কী দেখেছি, শিখেছি বা জেনেছি, আমি মনে করি যে, এই দেশ থেকে ভালো যা কিছু দেখেছি বা শিখেছি, দেশের নাগরিক হিসেবে এবং যেহেতু আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হয়তো আমার একটি সুযোগ আছে দেশের জন্য ভালো কিছু করার।

বিবিসি বাংলা : সংস্কারের কিছু বিষয়ে দেখা যাচ্ছে যে, বিএনপির সাথে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের কিছুটা মতপার্থক্য বা মতবিরোধ হচ্ছে।

তারেক রহমান : বাংলাদেশে রাষ্ট্র মেরামতের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার প্রয়োজন, একজন ব্যক্তি দুইবারের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না, থাকবেন না। বাংলাদেশে যখন স্বৈরাচার ছিল তাদের মুখের উপরে, তাদের চোখের দিকে চোখ রেখে আমরা বিএনপিই বলেছিলাম।

আমরা তো কোনো হাইড অ্যান্ড সিক করছি না। আমি যেটা মনে করছি যে ভাই আমি মনে করছি যেটা আমার দৃষ্টিতে ঠিক না, আমি বলছি ঠিক না।

বিবিসি বাংলা : কিন্তু বিএনপির ৩১ দফাতেই রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনার কথা বলেছেন। তা হলে এই বিষয়গুলোতে আপত্তি কেন?

তারেক রহমান : না, আমরা যেটা বলেছিলাম, আমরা সেখানে এখনো আছি। যতটুকু ভারসাম্য হওয়া উচিত, যে যে বিষয়ে যতটুকু বিবেচনা করা উচিত, আমরা সে বিষয়ের মধ্যে এখনো কমবেশি আছি। আমাদের অবস্থান থেকে তো আমরা অবস্থান পরিবর্তন করিনি।

বিবিসি বাংলা : এক ব্যক্তির তিন পদে এক সাথে থাকা সেখানেই তো আপত্তিটা বিএনপির?

তারেক রহমান : না, আমরা তো তখনো বলিনি যে এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। এটা অন্যরা কেউ বলেছে যে, এক ব্যক্তি তিন পদে থাকতে পারবে না। আমরা মনে করি না যে, এটাতে স্বৈরাচারী হওয়ার কোনো কারণ আছে।

২০০১ সালে তো বিএনপিরও টু থার্ড মেজরিটি ছিল, বিএনপি তো চেঞ্জ করেনি। যেহেতু জনগণ মনে করে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকলে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে তাই বিএনপি টু থার্ড মেজরিটি থাকার পরেও বিএনপি চেঞ্জ করেনি।

কাজেই এক ব্যক্তির হাতে থাকলেই যে স্বৈরাচর হবে তা নয়। এটি নির্ভর করে ব্যক্তি টু ব্যক্তি, শুধু আইন চেঞ্জ করলেই সব কিছু সঠিক হয়ে যাবে না।

বিবিসি বাংলা : জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নির্বাচনের আগেই চাচ্ছে অন্যান্য দল। বিএনপি বলছে, নির্বাচিত সংসদ সেটা করবে। এই জায়গাটা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়টা কী, বিএনপির চিন্তাটা এখন কী?

তারেক রহমান : আপনি যদি নির্বাচিত সংসদের কথা বলেন, অথচ তাকে বাদ দিয়ে যদি আপনি আউট অব দি বক্স কিছু করেন এবং এটা যদি রেওয়াজ হয়ে যায়, তা হলে এটা আমরা মনে করি যে, এটা সাংবিধানিকভাবে হোক, আইনগতভাবে হোক বা যে দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার- বিবেচনা করেন না কেন- ভবিষ্যতের জন্য এটি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

বিবিসি বাংলা : বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তখন ৩১ দফা নাকি জুলাই সনদ কোনটা অগ্রাধিকার পাবে?

তারেক রহমান : আমরা যেগুলোতে একমত হয়েছি, প্রথমে আমরা সেগুলোর ওপরেই জোর দিবো। সেটা আপনি যে নামেই বলেন না কেন, স্বাভাবিকভাবে আমরা ঐকমত্য কমিশনে যেগুলোতে সকলে মিলে একমত হয়েছি, আমরা ইনশা আল্লাহ সরকার গঠনের সুযোগ পেলে প্রথমে সেগুলোতেই অবশ্যই জোর দিবো।

বিবিসি বাংলা : রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের বাইরে আপনার পোষা বিড়ালের সাথে আপনার নিয়মিত ছবি দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তারেক রহমান : বিড়ালটি আমার মেয়ের বিড়াল। ও এখন অবশ্য সবারই হয়ে গিয়েছে। আমরা সবাই ওকে আদর করি।

বিবিসি বাংলা : আপনাকে নিয়ে অনেক মিমও তৈরি হয়, অনেক কার্টুন হয়। আপনি কিভাবে দেখেন?

তারেক রহমান : আমি এনজয় করি বেশ, বেশ আমি এনজয় করি।

বিবিসি বাংলা : আপনি দেখেন এগুলো? আপনার চোখে পড়ে?

তারেক রহমান : হ্যাঁ, চোখে পড়বে না কেন অবশ্যই চোখে পড়ে। আমি নিজেও আছি সোশ্যাল মিডিয়াতে কমবেশি। বহু বহু মানুষ আছেন, লাখো কোটি মানুষ আছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে।

কিন্তু এই মত প্রকাশের ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলো কি-না এই বিষয়টি বোধ হয় আমাদের বিবেচনায় রাখা উচিত; এটি এক নম্বর।

দ্বিতীয়ত হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ার বহুল ব্যবহারের ফলে ডিসইনফরমেশন বা মিসইনফরমেশন বিষয়টিও চলে এসেছে সামনে। একটি জিনিস আমি দেখলাম বা শুনলাম, সাথে সাথেই আমি সেটিতে ঝাঁপিয়ে পড়লাম- তা না করে আমার মনে হয়, ফ্যাক্ট চেক বলে যেই কথাটি আছে সোশ্যাল মিডিয়াতে, এ ব্যাপারে যদি একটু সচেতন থাকি; যে ঠিক আছে, এটি একটু যাচাই বাছাই করে নেই।

বিবিসি বাংলা : বিএনপির পক্ষ থেকে যেসব বক্তব্য বা প্রতিশ্রতি দেয়া হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে- এই প্রশ্নে মানুষকে কিভাবে আস্থায় নেবেন?

তারেক রহমান : বিএনপিরই কিন্তু দেশ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা আছে। হতে পারে আমাদের দ্বারা কিছু ভুল-ত্রুটি হয়েছে। ইয়েস, আমরাও দেখেছি, আমরাও অতীত থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি যে এই কাজটি এভাবে করলে হয়তো ভুল হয়, এটি আমরা ভবিষ্যতে ইনশা আল্লাহ করবো না। তো আমাদের অভিজ্ঞতা আছে এবং অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা ভালো-মন্দের যাচাই করতে পারব।

একই সাথে আমাদের কমিটমেন্ট আছে, যে কমিটমেন্ট দিয়ে আমরা ডেলিভারি করতে পারবো এবং আমরা ডেলিভারি করতে চাই।

বিবিসি বাংলা : আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন সে ক্ষেত্রে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ বা সংবাদমাধ্যমের উপর দমন-পীড়নের বিষয়গুলো যে আর হবে না, সেই নিশ্চয়তা কি আপনি দিতে পারেন?

তারেক রহমান : জ্বি, ইয়েস পারি। একদম দিতে পারি। আপনি ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত পত্রপত্রিকা খুলুন। আমি কারো নাম উল্লেখ করবো না, কোনো পত্রিকার কথা উল্লেখ করবো না। শুধু খুলে দেখুন কিভাবে অনেক খবর ছাপা হয়েছিল, যার সত্যতা কিন্তু ছিল না, অপপ্রচার ছিল। কিন্তু অপপ্রচারটা সংবাদ হিসেবে চালিয়ে দেয়া হয়েছিল।

বিএনপির অতীত সরকারের সময় সাংবাদিকদের গুম করা হয়নি, নির্যাতন করা হয়নি, সাংবাদিকদেরকে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হতে হয়নি- ইনশ আল্লাহ ভবিষ্যতেও হবে না।

বিবিসি বাংলা : তা হলে কি সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধ করে- এ ধরনের যে আইনগুলো রয়েছে, সেগুলো আপনারা বাতিল করবেন, এটা কি ধরে নেয়া যায়?

তারেক রহমান : অবশ্যই, আমরা সকলে মিলে বসবো, আলোচনা করব। আপনাদের মতো সাংবাদিকসহ যারা আছেন, তাদের সাথে আলোচনা করব। আলোচনা করে সেগুলোকে আমরা এরকম কালো আইন যা যা আছে, আমরা আস্তে আস্তে ঠিক করব।

সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও বলেছি। দেখুন, এটি তো সবাইকে মিলে করতে হবে। অপপ্রচারকে তো অবশ্যই সংবাদ হিসেবে তো প্রচার করা ঠিক নয়, তাই না?

যারাই আসুক সরকারে, রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমাদেরও অনুরোধ থাকবে আপনাদের প্রতি যে, অপপ্রচার সংবাদ হিসেবে যেন প্রচারিত না হয়, এই বিষয়টি নিয়ে সবাইকে একটু সচেতন বা খেয়াল রাখতে হবে। (সংক্ষেপিত)