বর্ষাকালে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই শুধু মশা নিধন নয়, ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা, শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াই ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। সাধারণত দিনের বেলায় এ মশা বেশি সক্রিয় থাকে। তাই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মশার কামড় এড়িয়ে চলার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বাসা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে, ফুলের টব, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র বা এসির ট্রেতে যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সেদিকে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ হলো হঠাৎ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীর ও জোড়ায় ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং দুর্বলতা। কারো কারো শরীরে লালচে র্যাশও দেখা দিতে পারে। জ্বর কমে গেলেও যদি পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া কিংবা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে।
জ্বর হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বেশি করে পানি, ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ওরস্যালাইন পান করা জরুরি। জ্বর কমানোর জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা এ ধরনের ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। দিনে ঘুমানোর সময়ও মশারি ব্যবহার করা যেতে পারে। জানালা ও দরজায় জালি লাগানো এবং প্রয়োজন হলে অনুমোদিত মশানাশক ব্যবহার করাও উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি পরিবার, প্রতিবেশী ও স্থানীয় পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ নেয়া গেলে বর্ষাকালে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।



