নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর চকপ্রসাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় জাল সনদ দিয়ে ২৯ বছর ধরে শিক্ষকতা এবং এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মুসলিম নিকাহ রেজিস্টারের (কাজী) দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক এ বি এম আবদুল কাদের বর্তমানে ওই মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে রয়েছেন। এ ঘটনায় মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল কাদের ১৯৯৭ সালে চকপ্রসাদ মাদরাসায় এবতেদায়ী শাখায় সহকারী মৌলভী পদে যোগ দেন। এর কিছুদিন পর আলিম শাখা চালু হলে ব্যবস্থাপনা কমিটির রেজুলেশনের মাধ্যমে বিধি বহির্ভূতভাবে তাকে সরাসরি আলিম শাখার আরবি প্রভাষক হিসেবে পদায়ন করা হয়। মাদরাসায় শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি নওগাঁ পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্টার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
নওগাঁ সদর উপজেলা মুসলিম নিকাহ রেজিস্টার সমিতির সভাপতি কাজি রফিকুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালে আবদুল কাদেরের দাখিল ও আলিম সনদের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হয়। একই বছরের ২৮ অক্টোবর বোর্ডের দেয়া চিঠিতে জানানো হয়, তার দাখিল (১৯৮১ সাল) ও আলিম (১৯৮৩ সাল) পরীক্ষা পাসের সনদ দু’টি বোর্ড থেকে ইস্যু করা হয়নি, অর্থাৎ সেগুলো জাল। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওই রোল ও নিবন্ধনের বিপরীতে ‘ইমান ফকর উদ্দীন’ নামের অন্য এক ব্যক্তির সনদ ইস্যু করা রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এ বি এম আবদুল কাদের বলেন, বোর্ডের ভুয়া চিঠি দেখিয়ে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে হাইকোর্টে একটি মামলা চলমান রয়েছে এবং তদন্ত কমিটির কাছেই আমি সঠিক জবাব দেবো। শিক্ষকতার পাশাপাশি কাজির দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি বা আধাসরকারি চাকরি করে কাজিগিরি করা যাবে না; আইনে এমন কোনো সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই।
নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগিরই তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



