জাকির হোসেন সৈয়দপুর (নীলফামারী)
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিসিক শিল্পনগরীর একটি সিলগালাকৃত গোডাউন থেকে প্রশাসনের জব্দকৃত দুই কোটি টাকা মূল্যের ৯৯ মেট্রিকটন নিষিদ্ধ বালাইনাশক উধাও হয়ে গেছে। ওই মালামাল দেখভালের দায়িত্বে থাকা শিল্পনগরী কর্মকর্তা, কৃষি কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন; কেউই কিছু জানেন না। এমনকি মালামাল ও গোডাউনের মালিকও এ বিষয়ে বেখবর। গত বুধবার বিকেলে আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ ওই মালামাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করতে এসে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিলগালা ক খুললে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৫ জুন বিসিক শিল্পনগরীর ওই গোডাউন থেকে এসিআই কোম্পানির সরকারঘোষিত নিষিদ্ধ বালাইনাশক ‘বিফার-৫ জি’ সরিয়ে নেয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তৎকালীন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা যৌথ অভিযান চালান। এ সময় গোডাউনে থাকা ৯৯ মেট্রিকটন মালামাল জব্দ করে গোডাউনটি সিলগালা করা হয় এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় চাবি দেয়া হয়। আর গোডাউন তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয় শিল্পনগরী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনকে।
সেই সাথে ঘটনার পর নিয়মিত মামলা দায়ের করে মালামালের মালিককে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর ধরে মামলাটি নীলফামারী বিশেষ আদালতে বিচারাধীন। সম্প্রতি আদালত নির্দেশ দেন নিষিদ্ধ ওই বালাইনাশকগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করার। সে অনুযায়ী নীলফামারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদুল হাসান সৈয়দপুর থানা-পুলিশের সহায়তায় বিসিক শিল্পনগরীতে আসেন।
শিল্পনগরী কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সিলগালাকৃত গোডাউন খুলে সবাই হতভম্ব হয়ে পড়েন। ভেতরে কয়েকটি কাগজের কার্টনসহ মাত্র ১২৩টি বালাইনাশকের প্যাকেট পাওয়া যায়, যেগুলো ছেঁড়াফাটা ও ইঁদুরে কাটা। পুরো গোডাউন ফাঁকা। এত বিপুল পরিমাণ জব্দকৃত মালামাল কোথায় গেল বা কে কিভাবে সরিয়ে ফেলল, এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর না পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিল্পনগরী কর্মকর্তার জিম্মায় অবশিষ্ট ১২৩টি প্যাকেট রেখে তার প্রত্যয়ন নিয়ে আদালতে জমা দেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিন গেলে শিল্পনগরী কর্মকর্তা মশিয়ার রহমান বলেন, আমি প্রায়ই গোডাউনের গেট চেক করি। তা ছাড়া পুরো শিল্পনগরী আমার তদারকিতে থাকলেও নির্দিষ্ট গোডাউনের দায়িত্ব মূলত সংশ্লিষ্ট মালিকের। আমি নিজেও জানতাম না এমন কিছু ঘটেছে। তবে গোডাউনের ভেতরের দেয়ালে এক জায়গায় নতুন প্লাস্টারের চিহ্ন দেখা গেছে, হয়তো সেখান দিয়ে মালামাল সরানো হতে পারে। নাইটগার্ড গেটে থাকেন, ভেতরে পাহারা দেয়ার দায়িত্ব তার নয়। মূল দায়িত্ব ছিল কৃষি কর্মকর্তার, কারণ তিনিই মামলার বাদি এবং তার কাছেই সিলগালা চাবি ছিল। পুলিশও প্রতিদিন তদারকি করত।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ধীমান ভূষণ বলেন, আমি বাদি হওয়ায় চাবি ড্রয়ারে সিলগালা রাখা ছিল। কিন্তু তদারকির দায়িত্ব ছিল বিসিক কর্মকর্তা ও পুলিশের। সিলগালার সময় ৯৯ মেট্রিকটন মালামাল ছিল। সেখান থেকে কিভাবে মালামাল উধাও হলো, তা আমার জানা নেই। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট এসে তালা খুলে মালামাল পাননি, সেটাও আমাকে জানানো হয়নি।
জব্দকৃত মালামালের মালিক মো: মনোয়ার হোসেন সরকার বলেন, পুলিশের নিষেধ থাকায় আমি বিসিকে যাইনি। আগের সরকারের সময় রাজনৈতিক কারণে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে মালামাল আটক করা হয়। অথচ আমার সব কাগজপত্র বৈধ ছিল। সিলগালা গোডাউন থেকে কিভাবে মালামাল গায়েব হলো, তা আমি জানি না। আমি এ ঘটনার নিরপে বিচার ও তিপূরণ দাবি করছি।



