দুঃসহ বিপর্যয় কাটিয়ে কিভাবে একাদশে ফেরা যায়, সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়ে কিভাবে নিজের স্থান পোক্ত করা যায় সেটিরই জ্বলন্ত উদাহরণ আনিসুর রহমান জিকো। ২০২৩ সালে এএফসি কাপের ম্যাচ খেলে মালদ্বীপ থেকে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে মদ কেলেঙ্কারিতে সাসপেন্ড হওয়া ক্লাব থেকে। এরপর জাতীয় দলেও জায়গা হারান। এ সুযোগে মেহেদী হাসান শ্রাবণ পূরণ করেন গ্যাপ। টেনে নিয়ে যান বসুন্ধরা কিংসকে। কিন্তু জিকো হার মানেননি। চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন ক্লাব ও বাংলাদেশ দলে স্থান ফিরে পাওয়ার। দুই মিশনের একটিতে সফলতা এলোা এবার। গত সিজনে মাত্র চার-পাঁচটি ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়া এই কিপার এখন বসুন্ধরা কিংসের পোস্টের নিচের আস্থা। এবারের লিগে দলের সাত ম্যাচের ছয়টিতেই খেলেছেন কক্সবাজারের চকোরিয়ার এই ছোটখাটো গড়নের কিপারটি। পরশু ফেডারেশন কাপে মোহামেডানের বিপক্ষে ম্যাচেও ছিলেন পোস্টের নিচে। এই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে গোলরক্ষক ছিলেন শ্রাবণ।
২০১৭ সালে জাতীয় দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে প্রথম ডাক পাওয়া জিকোর। জাতীয় দলের স্কোয়াডে থাকাটাও সেই বছর। লাওসের বিপক্ষে ফিফা প্রীতিম্যাচে ২-২ এ ড্র করা খেলায় বাংলাদেশ দলের স্কোয়াডে ছিলেন তিনি। লাল-সবুজ জার্সিতে একাদশে ফিরতে লেগেছে আরো তিন বছর। করোনার সময় ২০২০ সালে নেপালের বিপক্ষে ঢাকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা প্রীতিম্যাচে অভিষেক তার। এরপর মাঝে মধ্যে শহীদুল আলম সোহেল বা আশরাফুল ইসলাম রানার জন্য এক দুই ম্যাচ একাদশের বাইরে ছিলেন। তবে ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে’র সময় বাজপাখী উপাধি পাওয়া এই গোলরক্ষক ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে উপেক্ষিত হয়ে যান স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ার কাবরেরার কাছে। মিতুল মারমা বারবার ভুল করে গেলেও জিকোকে দলে ডাকেননি কাবরেরা। মনে হচ্ছিল হয়তো হারিয়েই যাবেন ২০২০ সালের এএফসি কাপের ম্যাচে মালদ্বীপের ক্লাবের তিনটি পেনাল্টি ঠেকানো এই শেষ প্রহরী। তবে হেরে যাননি উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের এই সন্তান। সামুদ্রিক ঝড়ের সাথে লড়াই করে যাদের টিকে থাকা তারা কি আর আগেই হেরে বসেন? জিকোও রণে ভঙ্গ দেননি। অনুশীলনে সিরিয়াস ছিলেন। সময় অন্য দিকে ধাবিত না করে পণ করেন ফেরার। ক্লাব টিমের একাদশে ফিরে এখন তিনি জাতীয় দলে ফিরে পোস্টের নিচে থাকার অপেক্ষায়।
২০২৩ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিফা প্রীতিম্যাচে সর্বশেষ বাংলাদেশ দলে খেলেছেন জিকো। এরপর ফিলিস্তিনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে স্কোয়াডে রেখেছিলেন উপস্থিতি। গত বছর মালদ্বীপের বিপক্ষে প্রীতিম্যাচেও ডাক পান জাতীয় দলে। তবে তাকে খেলাননি কোচ কাবরেরা। ২০১৮ সালে বসুন্ধরা কিংসে যোগ দেন এই গোলরক্ষক। অন্যরা অন্য ক্লাবে চলে গেছেন। কিন্তু জিকোতে আস্থা ছিল ক্লাবের। জিকোও ভালোবেসে ফেলেছেন পুরনো ক্লাবকে। ফলস্বরূপ নিষেধাজ্ঞা, একাদশে স্থান হারানো, মানসিক চাপ এত কিছু সত্ত্বেও এই ক্লাবে থেকে যাওয়া। সেই পুরস্কারই পাচ্ছেন তিনি। আর্জেন্টিনার কোচ মারিও গোমেজের আস্থা এখন জিকোর উপরেই।
ক্লাবে ফেরা হয়েছে জিকোর। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ক্লাবের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচেও খেলা হয়েছে। গত বছর এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে ভুটানের মাঠে দুই ম্যাচ খেলেছেন। এবার কুয়েতের মাঠে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাঠে নামেন কুয়েত সিটির বিপক্ষে। তবে কোনো ম্যাচেই জিততে পারেনি বসুন্ধরা কিংস। এখন তার অপেক্ষা কবে আবার বাংলাদেশ দলে ডাক পাবেন। আবার লাল-সবুজে বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে বল গ্রিফে নেবেন।
জিকো জাতীয় দলে না থাকায় ক্ষুব্ধদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আমের খান। তিনি কল্পনাই করতে পারতেন না এই অসাধারণ প্রতিভার গোলরক্ষকটি ছিটকে যাবেন। শেষ পর্যন্ত শ্রাবণকে টপকে ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত জিকো। তাই আমের খানের বক্তব্য, অবশ্যই আমার খুব ভালো লাগছে জিকো ক্লাবের একাদশে নিয়মিত হওয়ায়। সে তার অভিজ্ঞতা দিয়েই ফিরে এসেছে। পারফর করছে। আশা করব যে যেন দ্রুতই ফিরে আসে বাংলাদেশ দলে।



