দুর্লভ আবাসিক পাখি পাকড়া ধনেশ

Printed Edition
দুর্লভ আবাসিক পাখি পাকড়া ধনেশ
দুর্লভ আবাসিক পাখি পাকড়া ধনেশ

মো: আবদুস সালিম

শোনো, পৃথিবীতে ধনেশ পাখি রয়েছে প্রায় ৫৫ প্রজাতির; বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় চার প্রজাতির। আজ জানবে ‘পাকড়া ধনেশ’ সম্পর্কে। এ পাখির আরো নাম রয়েছে, যেমন- কাউ ধনেশ, বাঘমামা, উদীয় পাকড়া ধনেশ ইত্যাদি। বাংলাদেশে এদের দেখা মেলে মুক্তাঞ্চলে। এ পাখির ওজন ২-৩ কেজি হতে পারে। পাখি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পাকড়া ধনেশ বৃহদাকার প্রজাতির পাখি। ওরা আমাদের দুর্লভ আবাসিক পাখি।

এদের দেখা যায় বাংলাদেশ নেপাল, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, চীনে; দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। বেশি দেখা যায় চিরসবুজ বনে। এমনকি চিরসবুজ নয়, এমন স্থানেও মাঝেমধ্যে দেখা যায়। বিচরণ করে জোড়ায় জোড়ায় কিংবা দলবদ্ধ হয়ে।

পাকড়া ধনেশের ইংরেজি নাম ‘ওরিয়েন্টাল পাইড হর্নবিল’ (Oriental pied hornbill)। এদের ঠোঁটের শুরু থেকে লেজের শেষ মাথা পর্যন্ত গড় দৈর্ঘ্য ৮৫-৯০ সেন্টিমিটার। কিছুটা পার্থক্য রয়েছে স্ত্রী-পুরুষ পাকড়া ধনেশের চেহারায়। ফ্যাকাসে-নীল পট্টি বা বন্ধনী দেখা যায় পুরুষের গলায়। গলার পেছনের দিকটা নীল-কালোর মিশেল। লেজের বিভিন্ন জায়গা সাদা। উপরের দিকটা কালো। বুক ও লেজের নিচটা সাদা। নীল-সাদার মিশ্রণ চোখের পাশে। ঠেঁাঁট ও ঠোঁটের উপরটা উজ্জ্বল হলুদ। লাল চোখ। পা ও পায়ের পাতা অস্বচ্ছ সবুজ। এদিকে, পুরুষ তুলনায় মেয়ে পাখি আকারে কিছুটা ছোট। বাদামি এদের চোখ। ঠোঁট ও এর পাশে কিছু অংশ কালো। কিছুটা মলিন বা ফ্যাকাসে অপ্রাপ্তবয়ষ্কদের শরীরের রঙ। এদের ঠোঁট কিছুটা খাটো ও লেজ চিকন বা সরু। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ওরা আসল বা প্রকৃত রঙে ফিরে আসে।

এরা ব্যাঙ, ছোট সাপ, গিরগিটি, ইঁদুর, এমনকি জাতভাই ছোট পাখিও খায়। এদের প্রজননকাল এপ্রিল থেকে জুলাই। এ সময়ে মেয়ে পাখির খাবার জোগাড় করে পুরুষ পাখি। এমনকি ডিম-ছানা পরবর্তী সময়েও খাবার জোগাড় করে যায় পুরুষ। বেশির ভাগ সময়ে এক জায়গাতেই ওদের বসবাস। স্ত্রী পাখি ৫-৬টি করে ডিম দেয় বাসা তৈরি হওয়ার ১৫-২০ দিনের মধ্যে। ডিম ফুটে ছানা বের হয় প্রায় ৩০ দিনে। ডিম দেওয়ার আগে এবং ডিম দেওয়ার কয়েক দিন পর পর্যন্ত স্ত্রী পাখির শরীরের পালক কমে যায়। পরে আস্তে আস্তে শরীর আবার পালকে ভরে যায়। স্ত্রী পাখি ছানা ফুটিয়ে ২-৩ মাস ছানাদের সাথেই থাকে।