নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মহাকাশে উদ্ভিদ চাষে নতুন সাফল্যের খবর জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সবজি ও অন্যান্য খাদ্যযোগ্য উদ্ভিদ সফলভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা আরো বেড়েছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাকাশে চাষাবাদ শুধু নভোচারীদের জন্য তাজা খাদ্য সরবরাহই নয়, ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে দীর্ঘমেয়াদি মানববসতি স্থাপনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সীমিত পানি, আলো ও পুষ্টি ব্যবহার করে কিভাবে উদ্ভিদ উৎপাদন করা যায়, তা নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা চলছে।
মহাকাশে পরিচালিত পরীক্ষাগুলোতে বিশেষ আলোকব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানিব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্ভিদ বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এসব প্রযুক্তি পৃথিবীর অনুর্বর বা প্রতিকূল পরিবেশেও কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মহাকাশে উৎপাদিত উদ্ভিদ শুধু খাদ্যের উৎস নয়, বরং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ এবং অক্সিজেন উৎপাদনের মাধ্যমে নভোচারীদের জীবনধারণ ব্যবস্থাকেও সহায়তা করতে পারে। এ কারণে ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে চাষাবাদকে অপরিহার্য উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গবেষকদের আশা, চলমান পরীক্ষার ফল আরো উন্নত হলে ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে স্থায়ী গবেষণা কেন্দ্র বা মানববসতিতে নিজস্ব খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সহায়ক হবে।



