নিজস্ব প্রতিবেদক
চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৩০ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনের জেরার মধ্যদিয়ে এ ধাপ সম্পন্ন হয়।
গতকাল বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শেষ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। একই দিন ট্রাইব্যুনাল-১ এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। আসামি সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকারের সাফাই সাক্ষীর মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। আগামী ২৫ জানুয়ারি এই মামলার যুক্তিতর্ক শুরু হবে। চঞ্চল চন্দ্র সরকারের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সারওয়ার জাহান নিপ্পন ও এরশাদুল হক বাবু।
এদিকে আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিনকে পর্যায়ক্রমে জেরা করেন বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের পক্ষে আইনজীবী মামুনুর রশীদ, আইনজীবী ইশরাত জাহান ও শহিদুল ইসলাম।
টানা চারদিন আসামিপক্ষের আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন এ মামলায় ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দী দেন রুহুল আমিন। এর আগে ৬ জানুয়ারি তৃতীয় দিনের জেরা সম্পন্ন হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। সাথে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা। প্রসিকিউশন বা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে নিয়মানুযায়ী আসামিপক্ষের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হয়। কিন্তু সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণের কোনো আবেদন করেনি আসামিপক্ষ।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অন্য আবেদন থাকায় এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণের জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে গতকাল সকালে কারাগার থেকে গ্রেফতার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন- এ এস আই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন। তাদের হয়ে আইনি লড়াই করছেন সরকারি খরচে নিয়োগ পাওয়া চার আইনজীবী।
গত বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল-২। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে চারজনকে নিয়োগ দেয়া হয়। অভিযোগ আমলে নেয়া হয় ৩০ জুন। এর ছয় দিন আগে তথা ২৪ জুন চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত সংস্থা।



