ইউরোপের দুই ফুটবল শক্তি। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ক্ষমতাবান দেশ। আর এবারের বিশ্বকাপের দুই শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী। ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে একটির বিদায় হচ্ছে আজ। ডালাস স্টেডিয়ামে একই সাথে লড়াই দুই প্রজন্মের দুই ফুটবল প্রতিভা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লামিনে ইয়ামালের। দু’জনই স্প্যানিশ লিগে খেলেন। এমবাপ্পের ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ আর ইয়ামালের বার্সেলোনা। অর্থাৎ স্পেনের ঘরোয়া লিগেও তাদের দেখা হয়েছে। তবে এই সেমিফাইনালের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এটি ইয়ামালের প্রথম বিশ্বকাপ। আর এমবাপ্পের তৃতীয়। একজনের বিশ্বকাপ শুরু। অন্য দিকে এমবাপ্পের এটি তৃতীয় বিশ্বকাপ। গত দুই আসরে ফাইনালে খেলা এবং প্রথমে চ্যাম্পিয়ন হওয়া ও পরে রানার্সআপে সন্তুষ্ট থাকা এমবাপ্পের। শেষ পর্যন্ত আজ ম্যাচ জিতে কোন দল ফাইনালে খেলবে- এর উত্তরই মিলবে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর। প্রথম এই সেমিফাইনালটি ৭০,৬৪৯ দর্শক ধারণক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
ফরাসিরা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ী। তা ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালে। ফ্রান্সের পাশের দেশ স্পেন। এই স্পেন অবশ্য বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ একবারই পেয়েছে। তা ২০১০ সালে।
১৯৮৪ সালে ফ্রান্স প্রথমবারের মতো ইউরোতে চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে ফরাসিরা হারিয়েছিল স্পেনকে। আবার সে হারেরই বদলা যেন স্পেন নিয়েছে ২০২৪ সালে। সেবার ইউরোর সেমিফাইনালে স্পেন ২-১ গোলে হারিয়েছিল ফ্রান্সকে। বিশ্বকাপে দুই দলের একবাই দেখা হয়েছিল। ২০০৬ বিশ্বকাপের সেরা ১৬-এর সেই খেলায় লেস ব্লুজরা ৩-১ গোলে হারিয়েছিল লা রোজাদের।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্স। পরের সেমিতে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এই প্রথম ফিফা র্যাংকিংয়ের সেরা চার দল খেলছে বিশ্বকাপের সেমিতে।
এই টুর্নামেন্টে গোল করার ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে ফ্রান্সের সবচেয়ে বিধ্বংসী অস্ত্র এমবাপ্পেই; আটটি গোল ও তিনটি অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি ‘গোল্ডেন বুট’ জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন। আক্রমণভাগে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে উসমান দেম্বেলের পাঁচটি গোল এবং মাইকেল ওলিসে পাঁচটি অ্যাসিস্টও গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্রান্সের শক্তির জায়গা হলো তাদের অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঈর্ষণীয় আক্রমণভাগে আছেন ব্র্যাডলি বার্কোলা, দেম্বেলে ও ওলিসে মতো তারকা; আর নেতৃত্বে আছেন প্রধান স্ট্রাইকার এমবাপ্পে।
গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স রক্ষণভাগে কিছু দুর্বলতা দেখিয়েছিল। এই কারণে সেনেগাল ও নরওয়ের বিপক্ষে গোল হজম করেছিল। তবে নকআউট পর্বের তিনটি ম্যাচেই তারা কোনো গোল হজম করেনি (ক্লিন শিট রেখেছে)।
সেমিতে আসার পথে ফ্রান্স ৩-১ গোলে সেনেগালকে, ৩-০তে ইরাককে , ৪-১-এ নরওয়েকে হারিয়ে নকআউটে যায়। এরপর সেরা ৩২-এর ম্যাচে ফ্রান্স ৩-০ তে সুইডেনকে, ১-০তে প্যারাগুয়েকে এবং ২-০তে মরক্কোকে পরাজিত করে।
স্পেনের দলে একমাত্র স্ট্রাইকার হিসেবে আছেন রিয়েল সোসিয়েদাদের স্ট্রাইকার মিকেল ওয়ারজাবাল। এই আসরে চারটি গোল করেছেন তিনি। সুপার সাব হিসেবে মাঠে নেমে দু’টি গোল করেছেন মিকেল মেরিনো এবং দু’টি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন মার্ক কুকুরেয়া; অন্য দিকে ইয়ামালও ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছেন এবং এখন পর্যন্ত একটি গোল করেছেন।
দলটির আক্রমণভাগে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও, স্পেনের আসল শক্তি হলো তাদের সুদৃঢ় রক্ষণভাগ। পাঁচ ম্যাচে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে, আর সেটি ছিল কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। ইউরো চ্যাম্পিয়নদের বর্তমান দলে সেই চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাদ নেয়া ১৬ ফুটবলার আছেন। আর ফরাসি দলে কাতার বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া দলের ১৫ সদস্য।
স্পেন বিশ্বকাপ শুরু করে কেপ ভার্দের সাথে গোলশূন্য ড্র করে। এরপর সৌদি আরবকে ৪-০ ও উরুগুয়েকে ১-০তে হারিয়ে নকআউটে আসা। নকআউটে স্পেন ৩-০ তে অস্ট্রিয়াকে, ১-০ তে পর্তুগালকে এবং ২-১ গোলে বেলজিয়ামকে হারায়।
ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচের তথ্য অনুযায়ী, সুপারকম্পিউটারের হিসাব মতে নির্ধারিত সময়ে ফ্রান্সের জয়ের সম্ভাবনা ৪২.১ শতাংশ, যেখানে স্পেনের জয়ের সম্ভাবনা ৩১.৮ শতাংশ। মডেলটির হিসাব অনুযায়ী, খেলাটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে ২৬.১ শতাংশ।
১৬টি শহরে আয়োজিত এবারের বিশ্বকাপে এই ভেনুটিতেই ৯টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং এটিই তার মধ্যে সর্বশেষ ম্যাচ।
ফ্রান্স বনাম স্পেন মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ২০১০ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ফ্রান্স ও স্পেন এখন পর্যন্ত ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। এতে স্পেন ১৮টি এবং ফ্রান্স জিতেছে ১৩টি ম্যাচে এবং সাতটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সবশেষ পাঁচ দেখায়ও এগিয়ে স্পেন। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে ১-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল ফ্রান্স। এরপর ২০১৭ সালে প্রীতিম্যাচে ০-২ ব্যবধানে জয় স্পেনের। উয়েফা ন্যাশন্স লিগে ২০২১ সালে আবার ২-১ গোলে জয় ফ্রান্সের। আর সবশেষ দুই মোকাবেলায় জয় স্পেনের। এর মধ্যে উয়েফা ইউরোতে ২০২৪ আসরে ২-১ ব্যবধানে জয়ের পর উয়েফা ন্যাশন্স লিগে ২০২৫ সালে ফ্রান্সকে ৫-৪ গোলে হারিয়েছিল স্পেন।



