পলাশীর যুদ্ধ ছিল শুধু সামরিক পরাজয় নয়, বরং আত্মঘাতী বিশ্বাসঘাতকতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। মীর জাফরসহ নবাব সিরাজউদ্দৌলার ঘনিষ্ঠ লোকজন নিজেদের স্বার্থে ব্রিটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে বাংলার স্বাধীনতা ধ্বংসে ভূমিকা রাখেন।
গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত ‘পলাশীর যুদ্ধ : ফিরে দেখা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এ মন্তব্য করেন আলোচকরা। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজ (সিএসপিএস) এই সেমিনারটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন দেশের বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইতিহাসবিদ এস এম নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পলাশীর যুদ্ধ শুধু একটি সামরিক সংঘর্ষ নয়, এটি ছিল গভীর ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার ফল। যুদ্ধের ময়দানে নবাব সিরাজউদ্দৌলা হেরে যান শুধু শত্রুর কাছে নয়, বরং নিজের সেনাপতি ও ঘনিষ্ঠজনদের বিশ্বাসঘাতকতায়। মীর জাফর, জগৎ শেঠ ও উমিচাঁদের মতো ব্যক্তিরা লোভ ও স্বার্থের বিনিময়ে বাংলার স্বাধীনতাকে বিকিয়ে দেন। বর্তমান সময়ের মধ্যে মীর জাফরদের মতো কিছু লোকজন বিশ্বাসঘাতকতা করে দেশের স্বাধীনতাকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সিএসপিএসের সভাপতি কর্নেল (অব:) জে আর এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, এ বিশ্বাসঘাতকতা শুধু সিরাজউদ্দৌলার পতন ডেকে আনেনি, বরং গোটা মুসলিম সমাজকে দীর্ঘকাল পিছিয়ে দিয়েছে। তার মতে, এই ঘটনাই মুসলিম সমাজে আত্মবিশ্বাসহীনতা তৈরি করে, যা ঔপনিবেশিক শাসনের বিস্তারে সহায়ক হয়। আজকের দিনে পলাশীর যুদ্ধের শিক্ষা আরো প্রাসঙ্গিক, কারণ জাতি হিসেবে আমাদের ঐক্য, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের প্রতি দায়বদ্ধতা পরীক্ষার মুখে।
অনুষ্ঠানে নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী বলেন, ‘পলাশীর যুদ্ধ আমাদের ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়। এই যুদ্ধের মাধ্যমে শুধু একজন নবাবের পতন হয়নি, পতন হয়েছে একটি জাতির আত্মবিশ্বাস। সেটি সম্ভব হয়েছে নিজের লোকদের বিশ্বাসঘাতকতার জন্য। বর্তমানে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে আমরা দেখতে পেয়েছি, ইরানের ভিতরে থেকে এরা তাদের সৈন্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। ইরানের কিছু লোক মোসাদের চর সেজে তাদের দেশের মধ্যে ড্রোন কারখানা তৈরি করেছে। এভাবেই মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে বিশ্বাসঘাতকতা করে ধ্বংস ডেকে এনেছে। এই ভুল থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে।’



