তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ঐতিহাসিক : ওআইসি

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। এই চুক্তিকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। শুক্রবার দেশগুলোর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। খবর আলজাজিরার।

ওআইসি মহাসচিব হিসেইন ইব্রাহিম ত্বাহা এই চুক্তির প্রতি তার জোরালো প্রশংসা ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি অঞ্চলটি এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’

ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংহতি ও গঠনমূলক অংশীদারত্ব জোরদারে এটি একটি সম্মিলিত সংকল্পের বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি জানিয়েছেন। তিন দেশের নেতৃত্ব ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ওআইসিপ্রধান একে একটি ‘ঐতিহাসিক চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তি ওই অঞ্চল এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনে অবদান রাখবে।

মক্কায় অনুষ্ঠিত এক ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে দেশগুলো সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ওই অঞ্চলসহ এর বাইরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রসারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত এই শীর্ষ সম্মেলনে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

তুর্কি কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, এটি একটি প্রতিরক্ষামুখী সহযোগিতা চুক্তি যা নির্দিষ্ট কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। বরং দায়ভার বণ্টন এবং একটি অভিন্ন নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি জোরদার করার জন্য এর রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করাই এই চুক্তির লক্ষ্য। চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে।