পয়লা বৈশাখ ঘিরে ব্যাপক আয়োজন

আবুল কালাম
Printed Edition

পয়লা বৈশাখ বাংলা নতুন বছর ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আয়োজন চলছে। এবারের নববর্ষের প্রতিবাদ্য ‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’। বর্ষ বরণের আনন্দে মেতে উঠবে পুরো জাতি। বাঙালির প্রাণের এই উৎসব উদযাপনে নানা কর্মসূচির আয়োজন চলছে সংস্কৃতি অঙ্গনে। সব ভাষাভাষী সম্প্রদায় নানান আয়োজনে ভিন্ন ভিন্ন নামে উৎসবমুখর দিনটি পালন করবে।

নগরীতে সূর্যোদয়ের পর রমনার বটমূলে শুরু হবে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। আলো, প্রকৃতি, মানুষ ও দেশপ্রেমের গান দিয়ে সাজানো হচ্ছে এবারের অনুষ্ঠান। রমনার আশপাশ এলাকায় থাকবে পান্তা-ইলিশ ও হরেক বাঙালি খাবারের মেলা।

সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হবে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। থাকছে বৈশাখী কনসার্ট।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয়েছে সাংস্কৃতিক উৎসবের। এতে গান, নৃত্য, নাটক, আবৃত্তি ও প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন দেশের স্বনামধন্য শিল্পীরা। ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে সকাল ৬টা থেকে থাকছে মুক্তমঞ্চে গান, কবিতা ও নাচের পরিবেশনা, সাথে রয়েছে বাঙালি খাবারের নানা আয়োজন।

বাংলা বর্ষবরণকে ঘিরে পার্বত্য জেলাগুলোতে থাকছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘বৈসাবি’। পুরনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ উপলক্ষে বর্ষবরণ উৎসব সেই আদিকাল থেকেই পালিত হয়ে আসছে।

দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোও নিয়ে এসেছে বৈশাখী আয়োজনের নতুন সংগ্রহ। নতুন বছরের আনন্দের মুহূর্তকে সামনে রেখে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোও ব্যস্ত হয়ে ওঠে নতুন সংগ্রহ সাজানো, ক্রিয়েটিভ আইডিয়া খোঁজা এবং নববর্ষের আবহকে কাপড়ে ফুটিয়ে তোলার প্রস্তুতিতে।

রঙ বাংলাদেশের বৈশাখ আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ফ্যামিলি ম্যাচিং পোশাক। বাবা-মা-ছেলে-মেয়েসহ পুরো পরিবার একই রঙ ও থিমে নিজেদের সাজিয়ে নিতে পারবে বৈশাখের আনন্দে।

বৈশাখকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনে এই পোশাকগুলো এনে দেবে ঐতিহ্যের রঙিন আবহ। হোলসেল সংগ্রহের সুবিধাও রয়েছে। ‘রঙে রঙে বৈশাখ’ সংগ্রহে রয়েছে শাড়ি, পাঞ্জাবি, কামিজ, সিঙ্গেল কামিজ, টি-শার্ট, ফ্রকসহ স্টিচ -আনস্টিচ নানা ধরনের পোশাক।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের নববর্ষের প্রতিবাদ্য ‘নববর্ষের ঐক্যতান, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার’।

এ ছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি যথাযথ বাস্তবায়নে বাংলা নববর্ষ উদযাপনকে সার্বজনীন, সুশৃঙ্খল ও তাৎপর্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রাথমিক কয়েকটি সিদ্ধান্তও গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো হলো- পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ওই আয়োজনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ছায়ানটের উদ্যোগে রমনা বটমূলে বরাবরের ন্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানটি সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেতার মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ফিডের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যথাযথ কর্মসূচি আয়োজন করবে শিল্পকলা একাডেমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন এবং এতে জাতীয়তাবাদ সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থাকে (জাসাস) সম্পৃক্ত করা হবে। সর্বস্তরের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক হিসেবে উদযাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।