গুলি করে আলমগীর, বাইক চালায় ছাত্রলীগের ফয়সাল

হাদি এখনো লাইফ সাপোর্টে, মেডিক্যাল বোর্ড গঠন

এস এম মিন্টু
Printed Edition
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল

  • প্রচারণার পুরো সময় ওসমান হাদির সাথে ছিল কিলাররা

জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নায়ক, ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে ফিল্মি স্টাইলে গুলি করেছে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেন। আর মোটর সাইকেল চালিয়ে হাদির রিকশার কাছাকাছি নিয়ে যায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল (৩৭)। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই দু’জনকে চিহ্নিত করতে পারলেও গতকাল পর্যন্ত তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে তারা দেশের ভেতরেই অবস্থান করছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এরই মধ্যে হামলাকারীদের সন্ধানদাতাদের ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রাজনৈতিক বা কোনো বিদেশী চক্র এই কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে থাকলে কিলারদের খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে। তবে আপাতদৃষ্টিতে এবং গোয়েন্দাদের তদন্তে আন্ডারওয়ার্ল্ড বা রাজনৈতিক বড় কোনো দলের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। যদিও ফয়সাল আদাবর থানার ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। অন্য কিলার আলমগীরের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

এদিকে ওসমান হাদির শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত। তবে কিডনির কার্যক্ষমতা ফিরে এসেছে। এটি বজায় রাখতে পূর্বনির্ধারিত ফ্লুইড ব্যালেন্স যথাযথভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধা ও রক্তক্ষরণের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিলেও তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এ অবস্থা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত ও রক্তজাত উপাদান সঞ্চালন অব্যাহত থাকবে।

একাধিক গোয়েন্দা সূত্র গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, হাদির সাথে গত ৯ ডিসেম্বর থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় ছিলেন ফয়সাল। মাঝে দু’দিন বিরতির পর শুক্রবার সকাল ১০টায় প্রচারণার জন্য ১০টি ভাগে ভাগ হয়ে প্রচারণায় নামেন ওসমান হাদি। সকাল ১১টা ১০ মিনিট থেকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে শুটার আলমগীর ও বাইক চালক ফয়সালকে সাথে নিয়ে প্রথমে শিল্পকলা একাডেমি, শান্তিনগর মোড় হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর দিয়ে মতিঝিলের একটি মসজিদে নামাজ পড়েন ওসমান হাদি। তবে দুই সন্দেহভাজন কিলার নামাজ না পড়ে বাইরে ছিলেন। মসজিদ থেকে বেরিয়ে হাদি যখন রিকশাযোগে রওনা হন তখন তার পিছু নেয় আলমগীর ও ফয়সাল। এরপর বেলা ২টা ২৪ মিনিটে বিজয়নগর বক্স কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় পেছন থেকে মোটর সাইকেলে আসা এই দুজনের মধ্যে একজন হাদিকে গুলি করে।

এদিকে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের ছবি প্রকাশ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। আরেকজনের ছবি প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। জানা গেছে, ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য ফয়সাল আদাবর এলাকায় গত বছরের ৮ নভেম্বর অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়। ওই মামলায় ফয়সালকে র‌্যাব গ্রেফতার করলেও তিনি জামিনে বেরিয়ে যান। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয় আদালতে। আরেকটি মামলা ছিল চাঁদাবাজির। আদালত থেকে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ দিকে সন্দেহভাজন কিলারদের গ্রেফতার করতে হন্যে হয়ে খুঁজছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা দেশ ছেড়ে যেন পালাতে না পারে সেজন্য সীমান্তে কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, বাইক চালক ফয়সালের বাবার নাম হুমায়ুন কবির। তাদের গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কেশবপুরে। তার বর্তমান ঠিকানা রাজধানীর আদাবর থানাধীন পিসিকালচার হাউজিং সোসাইটি (বাসা নং-৪১, রোড নং-৯)। গত বছরের ৮ নভেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগে আদাবরের ওই বাসা থেকে ফয়সালকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে র‌্যাব। আদাবর থানায় তার বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা হয়। মামলাগুলো এফআইআর নং-৭ ও জি আর নং-২৫৫।

১২ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন : শরিফ ওসমান হাদির চিকিৎসায় গতকাল সকালে এভারকেয়ার হাসপাতালে ১২ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মেডিক্যাল বোর্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা ও আন্তরিকতার সাথে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। একটি সূত্রে জানা গেছে, হাদির কনসাস লেভেল পনেরোর মধ্যে আছে তিন। এটি একেবারেই সর্বনিম্ন।

এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর (আইসিইউ ও এইচডিইউ) ডা: মো: জাফর ইকবাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘হাদির মস্তিষ্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাকে কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টে রাখা হয়েছে। ব্রেন প্রোটেকশন প্রোটোকল অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সব সাপোর্ট চালু থাকবে। শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলে আবার ব্রেনের সিটি স্ক্যান করা হতে পারে। ফুসফুসে ইনজুরি বিদ্যমান রয়েছে। চেস্ট ড্রেইন টিউব দিয়ে অল্প পরিমাণ রক্ত নির্গত হওয়ায় তা আপাতত চালু রাখা হয়েছে। ফুসফুসে সংক্রমণ ও এআরডিএস প্রতিরোধের বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে ভেন্টিলেটর সাপোর্ট অব্যাহত রাখা হবে।’

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘ব্রেন স্টেম ইনজুরির কারণে রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দনের ওঠানামা করছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে যে সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে তা চলমান থাকবে। হৃদস্পন্দন বিপজ্জনকভাবে কমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে টেম্পোরারি পেসমেকার স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট টিম সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।’ এ ছাড়া কোনো ধরনের ভিজিটর প্রবেশ করতে দেয়া হবে না জানিয়ে অপ্রয়োজনে হাসপাতালে ভিড় না করতে অনুরোধ করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনুমানভিত্তিক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতি আস্থা রাখতে, রোগীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, রেডিওলজি, আইসিইউ, অ্যানেস্থেশিয়া, নিউরোসার্জারি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসক ও সাপোর্টিভ স্টাফদের অসাধারণ ও মানবিক অবদানের জন্য এই মেডিক্যাল বোর্ড তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন, নিউরো অ্যানেস্থেশিয়া ও আইসিইউর সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, নিউরোসার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: জিল্লুর রহমান, কার্ডিওলজির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: এ কে এম রেজা, নেফ্রোলজির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: মাসুম কামাল খান, রেসপিরেটরি মেডিসিনের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: জিয়াউল হক, নিউরোমেডিসিনের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: খন্দকার মাহবুবুর রহমান, ডা: এস এম হাসান শাহরিয়ার, কার্ডিওথোরাসিক সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: জুলফিকার হায়দার, বক্ষব্যাধি সার্জারির সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: শাহিনুর রহমান, অর্থোপেডিক্সের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: আতিয়ার রহমান, নাক-কান-গলার সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: একরাম উদ্দৌলা ও হেমাটোলজির কনসালটেন্ট ডা: কাজী স্মিতা হক।

সার্বিক তত্ত্বাবধান রয়েছেন এভারকেয়ারের ডিএমএস ডা: আরিফ মাহমুদ ও প্রাইমারি কনসালটেন্ট ডা: আলিউজ্জামান।

জড়িতদের শিগগিরই গ্রেফতারের আশা ডিএমপি কমিশনারের : হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শিগগিরই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো: সাজ্জাত আলী। তিনি বলেন, হামলাকারীদের গ্রেফতারে জনগণের সহায়তা চাইছি। আমরাও খুঁজতেছি, প্রাইম সাসপেক্টকে খুঁজতেছি। এখনো ২৪ ঘণ্টা পার হয়নি। হোপফুলি আমরা হিট করতে পারব। গতকাল রাজারবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভা শেষে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এ কথা বলেন। আগামী সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, তাদের নিরাপত্তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

হামলাকারীর ছবি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি : হাদির ওপর সন্দেহভাজন এক হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করে তার বিষয়ে তথ্য চেয়েছে ডিএমপি। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি বলছে, ‘পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে’; ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো তথ্য থাকলে বা তার সন্ধান পেলে দ্রুত পুলিশকে অবহিত করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। কোনো তথ্য থাকলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ বা পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনারকে ০১৩২০০৪০০৮০ এই নম্বরে বা পল্টন থানার ওসিকে ০১৩২০০৪০১৩২ ফোন করে জানানোর অনুরোধ করেছে পুলিশ। সন্ধানদাতার পরিচয় গোপন রাখার পাশাপাশি তাকে ‘উপযুক্ত’ পুরস্কারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

২৪ ঘণ্টায়ও মামলা হয়নি : হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পল্টন থানার ডিউটি অফিসার এসআই রকিবুল হাসান মামলা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমাদের ডিসি, এডিসি ও ওসি স্যার মিটিংয়ে বসেছেন। মামলা না হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের ডিসি মুহাম্মাদ তালেবুর রহমান বলেন, গুলিবিদ্ধ হাদি হাসপাতালে। তার পরিবারও হাসপাতালে রয়েছে। তাই এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।

এ ধরনের হামলা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বিপজ্জনক : গতকাল শনিবার সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের বর্বরোচিত হামলা দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বিপজ্জনক। হাদির দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি, তার পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে শরিফ ওসমান হাদির সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি। হাদির ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং আগামী সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সব প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সুজন। বিবৃতিতে সুজন আরো জানায়, সম্ভাব্য আক্রমণের হুমকি থাকা সত্ত্বেও শরিফ ওসমান হাদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তাই ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, কেউ যাতে নির্বাচনের যাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেজন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তৎপর হতে হবে। এই লক্ষ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের ধরার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর হওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন সুজন।

রাহুলের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

পুলিশের পিসিআর রিপোর্ট অনুযায়ী, ফয়সালের স্থায়ী ঠিকানা বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেশবপুর কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। তার বাবার নাম হুমায়ুন কবির। বর্তমানে তিনি ঢাকার আদাবর থানাধীন পিসি কালচার হাউজিং সোসাইটি এলাকায় থাকেন। আদাবর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফয়সাল করিম মাসুদের পিসিআর রিপোর্টের তথ্য ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। এ খবর বাউফলে পৌঁছলে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো: আবু ইউসুফ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাউফলসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী সন্দেহভাজন রাহুলের পরিবারের কেউ বর্তমানে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন না। তারা অনেক আগেই তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে এলাকা ত্যাগ করেছেন। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় বাড়তি নজরদারি রাখা হয়েছে।