আলজাজিরা
প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে অনুসৃত শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে এসে দেশটি প্রাণঘাতী অস্ত্র রফতানির ওপর থাকা পুরনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে। এর আগে জাপানের সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর কেবল প্রাণঘাতী নয় এমন পাঁচটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করলেও কোন কোন নির্দিষ্ট অস্ত্র রফতানি করা হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। বর্তমানে ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটে হাউছি বিদ্রোহীদের তৎপরতার ফলে বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা চলছে তার মধ্যে জাপানের এই প্রতিরক্ষা কৌশল বদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক লাশ উদ্ধার এবং বহু মানুষকে বন্দী করার মতো অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে জাপানের এই নতুন অবস্থান এশীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতেই জাপান এই কড়া বিধিনিষেধ তুলে নিলো।
এ দিকে জাপানি সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের ফলে জাপান অন্য দেশের কাছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ বিক্রি করতে পারবে। জাপান ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার জন্য এসব যুদ্ধউপকরণ তৈরি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। এই সংশোধনীর ফলে নীতিগতভাবে সব প্রতিরক্ষা উপকরণ হস্তান্তর করা সম্ভব হবে জানিয়ে তাকাইচি বলেন, তবে গ্রাহক সেই দেশগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে যারা জাতিসঙ্ঘ সনদ অনুযায়ী ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। ক্রমবর্ধমান গুরুতর নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একক কোনো দেশই এখন একা তার নিজের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে পারছে না।
এ বিষয়ে জাপানের চুনিচি সংবাদপত্র জানায়, এই পরিবর্তনের ফলে অন্তত ১৭টি দেশ জাপানের তৈরি করা অস্ত্র কেনার সুযোগ পাবে। তবে জাপানের সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে আরো দেশ সম্ভবত এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এর আগে, ১৯৬৭ সালের নীতি অনুযায়ী জাপান কেবল অ-প্রাণঘাতী সামরিক সরঞ্জাম রফতানি করতে পারত। যদিও নতুন নীতিতেও সঙ্ঘাতপূর্ণ অঞ্চলে অস্ত্র রফতানির ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে, তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ছাড় দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ দিকে অস্ট্রেলিয়ার সাথে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় জাপানি কোম্পানি মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ প্রায় সাত বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে। অপর দিকে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির ইয়াসুকুনি শ্রাইনে ধর্মীয় উৎসর্গ পাঠানো নিয়েও আলোচনা চলছে।



