নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে দলটি। গতকাল জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমানের সাথে মার্কিন শিক্ষাবিদ ড. গর্ডন কিংগেনশমিটের নেতৃত্বে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর মগবাজারের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংখ্যালঘুদের অধিকার, পারস্পরিক সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখার বিভিন্ন দিক নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।
এ সময় জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ। এ দেশের সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জামায়াতে ইসলামী সব সময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় বিষয় তুলে ধরা হয় এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা আরো জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। ড. গর্ডন কিংগেনশমিট বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং এ ধরনের সংলাপ অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বৈঠকে জামায়াতের আমিরের সাথে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর। খ্রিষ্টান প্রতিনিধিদলে ছিলেন ন্যাশনাল খ্রিষ্টান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের জেনারেল সেক্রেটারি মার্থা দাশ, বাংলাদেশ ইভানজেলিক্যাল রিভাইভাল চার্চের চেয়ারম্যান রেভারেন্ড বনি বাড়ৈ, টিচার ফর পাস্তর ইন বাংলাদেশের ফরমার লেজিসলেটর ড. গর্ডন প্রমুখ।
সাক্ষাৎ শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মার্থা দাশ বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে শরিয়া আইন চালু হবে কি না এ নিয়ে আমিরকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছেন, দেশে শরিয়া আইন চালু হবে না। এজন্য আমরা অনেক খুশি হয়েছি। পরে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রতিনিধিদল প্রশ্ন করেছিল জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন হবে কি না? এ প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেছেন, দেশ বর্তমানে যে আইন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে সে আইন দিয়েই দেশ পরিচালিত হবে।
রাজধানীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ : অবিলম্বে জননেতা শহীদ আনোয়ার উল্লাহ ও শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন।
গতকাল জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের শেরেবাংলানগর দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ডের সহসভাপতি ও মানবিক হোমিও চিকিৎসক ডা: আনোয়ারুল্লাহকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতারপূর্বক বিচারের দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান আযমী, অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ মণ্ডল, নুরুল ইসলাম আকন্দ, আবু জাফর মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন এবং শিবির নেতা এজাজ আহমেদ। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ফার্মগেট থেকে শুরু হয়ে বিজয় সরণি মনিপুরীপাড়ার তেজগাঁও মসজিদের সামনে এসে শেষ হয়।



