নোয়াখালী-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াই চাপে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী

মুহাম্মদ হানিফ ভুঁইয়া, নোয়াখালী অফিস
Printed Edition

নোয়াখালী-২ সংসদীয় আসন (সেনবাগ) ঘিরে নির্বাচনী মাঠে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে ত্রিমুখী লড়াই। এতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সেনবাগ উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৬০ হাজার ৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৮৬ হাজার ৩০৫ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৭৫ জন।

এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে তিনজনের মধ্যে। তারা হলেন- বিএনপির প্রার্থী সাবেক বিরোধীদলীয় হুইপ ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সুলতান মো: জাকারিয়া এবং বিএনপির সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান।

রাজনৈতিকভাবে এ আসনে বিএনপি এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। একাংশ প্রকাশ্যে জয়নাল আবেদীন ফারুকের পক্ষে মাঠে থাকলেও আরেক অংশ দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমানকে সমর্থন দিচ্ছেন। বহিষ্কৃত হলেও কাজী মফিজুর রহমানের পক্ষে স্থানীয় বিএনপির একটি শক্তিশালী অংশ রাত দিন প্রচার-প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছে। অন্য দিকে, এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী ছিলেন নোয়াখালী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদ। অতীতে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে পরে ন্যায়বিচার পান। চলতি নির্বাচনে জামায়াত প্রথমে তাকে মনোনয়ন দিলেও এনসিপি জোটভুক্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর এনসিপির প্রার্থী সুলতান মো: জাকারিয়াকে জোটপ্রার্থী হিসেবে মাঠে নামানো হয় এবং তিনি তাকে পূর্ণ সমর্থন জানান।

বর্তমানে এনসিপির পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও সুলতান মো: জাকারিয়ার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। এতে করে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জয়নাল আবেদীন ফারুক সাবেক এমপি হিসেবে এলাকায় পরিচিত মুখ। বিগত সরকারের সময়ে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় তিনি নির্যাতনের শিকার হন। তবে দলের ভেতরের বিভক্তি তার নির্বাচনী পথকে কিছুটা কঠিন করে তুলেছে। সব মিলিয়ে নোয়াখালী-২ আসনে এবার তীব্র ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস মিলছে। শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে বিজয় আসবে, তা জানতে ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।