ছাদে উঠা যাত্রীদের নামাতে লাঠিপেটা

এবারো ট্রেনে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি

Printed Edition
ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে বাড়িফেরা।  ছবিটি টঙ্গী স্টেশন থেকে তোলা  : নয়া দিগন্ত
ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে বাড়িফেরা। ছবিটি টঙ্গী স্টেশন থেকে তোলা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিবারের মতো এবারো ট্রেনে ঈদযাত্রায় ঘরমুখোদের স্টেশন থেকেই ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এরমধ্যে কোনো কোনো ট্রেন নির্ধারিত সময়ে না ছাড়ার কারণে অনেক যাত্রীকে ট্রেনের ভেতরেই বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তবে এবার রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ট্রেনের ছাদে উঠে জার্নি করা যাত্রীদের বিষয়ে খুবই কঠোর অবস্থানে ছিলেন। এরমধ্যে কোনো কোনো ট্রেনের ছাদে নিরাপত্তা কর্মীদের উপায় না পেয়ে যাত্রীদের লাঠিপেটা করতে দেখা যায়।

গতকাল সোমবার ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে বিভিন্ন গন্তব্যর উদ্দেশ্য ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের মধ্যে কয়েকটি ট্রেন কিছুটা বিলম্বে ছেড়ে গেছে। চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। সেটি এক ঘণ্টা ২০ মিনিট দেরিতে ছেড়ে গেছে। মহানগর প্রভাতী ৭টা ৪৫ মিনিটে কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেটিও আধঘণ্টা বিলম্বে অর্থাৎ ৮টা ১৫ মিনিটে গন্তব্যর উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। বুড়িমারী এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস ৯টা ১০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও সেটি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট ছেড়ে যায়। এসব ট্রেনের যাত্রীরা দেরি হওয়ায় কর্তৃপক্ষের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষুব্ধ সাইফুল নামের একজন যাত্রী সাংবাদিকদের আপেক্ষ করে বলেন, প্রথমবারের মতো তিনি ঈদ করতে ট্রেনে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। ট্রেনটি ১০টায় কমলাপুর ছাড়ার কথা ছিলো। কিন্তু ট্রেন যাতে মিস না হয়, সেজন্য তিনি নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগেই স্টেশনে চলে আসেন। কিন্তু এসে দেখেন ওই ট্রেনের যাত্রাই বিলম্ব হচ্ছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, অনলাইনে টিকেট কাটতে অনেক ভোগান্তি হয়েছে। শুধু সাইফুল নয়, তারমতো শত শত যাত্রীকে গতকাল ঢাকা থেকে গন্তব্যর উদ্দেশ্য যেতে স্টেশনেই ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এবার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া কোনো ট্রেনেই যাতে যাত্রীরা ছাদে উঠতে না পারে সে জন্য সরকারের নির্দেশে রেল কর্তৃপক্ষ ছিলেন কঠোর অবস্থানে। তারা এবার যেসব যাত্রী ট্রেনের ছাদে উঠার চেষ্টা করেছে, তাদের প্রথমে ভদ্রভাবে নেমে যেতে অনুরোধ করা হয়। এরপর করা হয় হ্যান্ড মাইকিং। এর পরও যারা শোনেননি তাদেরকে পরবর্তীতে নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রেনের ছাদে উঠে কয়েকজনকে লাঠি দিয়ে পেটাতে। অনেকে নিরাপত্তারক্ষীদের মারমুখী আচরণ দেখে উপায় না পেয়ে ছাদ থেকে নেমে পড়েন। এখন শেষ দিনে ট্রেন যাত্রীদের কর্তৃপক্ষ কতটা নিয়ন্ত্রন করতে পারেন সেটি বিবেচ্য বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন।

ঢাকার ছাড়ার মুহূর্তে ট্রেনের কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করেন, রেলওয়ের টিকিট সিন্ডিকেটের সদস্যরাই প্রতি বছর স্ট্যান্ডিং টিকিটের যাত্রীদের আগেভাগে ভেতরে ঢুকিয়ে ট্রেনের টিকেটধারী যাত্রীদের বসতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছেন। মূলত এই সুযোগে বিনা টিকিটের যাত্রীদেরও তারা অবৈধ সুযোগ নিয়ে স্টেশনে ঢোকার অনুমতি দিচ্ছেন। তারাই গিয়ে নির্ধারিত টিকিটের যাত্রীদের আসনে বসে পরিবেশ নষ্ট করছেন। যারা এসব অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান সাধারণ যাত্রীরা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কাছ থেকে সাড়া মেলেনি।