রয়টার্স
মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে তাদের ওপর চাপ বাড়ানো এবং দেশটির গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে ওয়াশিংটনের সমর্থন আরো জোরদারের লক্ষ্যে আনা বিল ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্ট’ মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে পাস হয়েছে।
ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের আনা এ যৌথ বিলটি সোমবার পাস হয় বলে মিয়ানমারকেন্দ্রিক দুই সংবাদমাধ্যম মিজিমা ও ইরাবতি জানিয়েছে। গত বছরের মে মাসে মিশিগানের রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বিল হুইজেঙ্গা ‘ব্রিংগিং রিয়েল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ভায়া এনফোর্সমেন্ট ইন বার্মা অ্যাক্ট’ বা সংক্ষেপে ব্রেভ বার্মা বিলটি উত্থাপন করেন।
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর এটি এখন উচ্চকক্ষ সিনেটে যাবে। সেখানে গৃহীত হলে যাবে প্রেসিডেন্টের টেবিলে, তিনি স্বাক্ষর করলেই এটি আইনে পরিণত হবে। সে ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতি বছর মিয়ানমার তেল ও গ্যাস সংস্থা, মিয়ানমার ইকোনমিক ব্যাংক ও দেশটির জেট-জ্বালানি খাতে নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি আরো বাড়ানো হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। আগামী সাত বছর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার থাকবে তার।
এখনকার আইনে মিয়ানমারের সুনির্দিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা, তাদের পরিবারের সদস্য, তাদের পক্ষে কাজ করা বিদেশী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রশাসনের রয়েছে। নতুন আইনে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৩২ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো এবং আরো কঠোর করার পথ তৈরি হবে, বলছে হুইজেঙ্গার কার্যালয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ ‘ব্রেভ বার্মা’ আইনের বলে নিষেধাজ্ঞার নীতি, অস্ত্র কেনা-বেচায় বিধিনিষেধের উদ্যোগ, মানবিক সহায়তা ও কূটনৈতিক যোগাযোগ সমন্বয়ে মিয়ানমারে রাষ্ট্রদূত পদমর্যাদার এক বিশেষ দূতও নিয়োগ দিতে পারবেন।
বিলটি আইনে পরিণত হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) মার্কিন নির্বাহী পরিচালক মিয়ানমারে যতদিন স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন বৈশ্বিক এ সংস্থা মিয়ানমারের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর যেকোনো চেষ্টার বিরোধিতা করবেন ও বিপক্ষে ভোট দেবে।
স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল বলতে ২০২১ সালে মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা দখল করা জান্তা সরকারকেই বোঝাচ্ছে। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে সম্প্র্রতি নির্বাচন হয়েছে। অং সান সু চির দলসহ বেশিরভাগ গণতন্ত্রপন্থী দল অংশ নেয়ার সুযোগ না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহল এ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যানও করেছে। বিলটির অন্যতম সহ-প্রস্তাবক নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা টিম কেনেডি বলেছেন, তাদের এ ‘ব্রেভ বার্মা অ্যাক্টের’ লক্ষ্যই হচ্ছে জান্তার অর্থসম্পদ প্রাপ্তির পথ আটকানো এবং মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা।



