বাংলাদেশে সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এবারের ঈদ যাত্রায় পদ্মা সেতুতে চালু হয়েছে দেশের প্রথম সমন্বিত ক্যাশলেস টোলিং সেবা ‘ডি-টোল’। এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) পরিচালিত এই উদ্যোগের ফলে যানবাহন চালকদের আর টোল প্লাজায় থেমে নগদ অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে না। স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দ্রুত ও নির্বিঘœভাবে টোল পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ঈদকেন্দ্রিক অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এটুআইর হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম জানান, এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি যানবাহন এই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত হয়েছে এবং সাত কোটি টাকারও বেশি টোল লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডি-টোল চালুর ফলে যাতায়াতে স্বস্তি বেড়েছে, যানজট কমেছে এবং বিপুল পরিমাণ কর্মঘণ্টা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।’
ডি-টোল মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্মুক্ত ও আন্তঃসংযুক্ত টোলিং প্ল্যাটফর্ম। এতে যানবাহনের বিদ্যমান বিআরটিএ আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে আলাদা কোনো ডিভাইস বা অন-বোর্ড ইউনিট কিনতে হচ্ছে না, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সেবাটিকে আরো সহজ, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করেছে।
বর্তমানে পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ধাপে ধাপে এই সেবা চালু করা হয়েছে এবং প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন ডি-টোল ব্যবহার করছে। ঈদ উপলক্ষে এর ব্যবহার আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে টোল পরিশোধ করতে পারছেন।
বর্তমানে ডি-টোলের পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিকাশ, নগদ, ট্যাপ, উপায়, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), এনসিসি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরো ব্যাংক ও ডিজিটাল ওয়ালেট এই প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত হবে, যাতে ব্যবহারকারীরা একটি সমন্বিত জাতীয় টোলিং ব্যবস্থার আওতায় সহজে সেবা গ্রহণ করতে পারেন। বিজ্ঞপ্তি।



