ক্রীড়া ডেস্ক
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে চলমান বিতর্ক যেন থামছেই না। চরম অসন্তোষের চিত্র যেন বেড়েই চলেছে। এই ধারাবাহিকতায় ইনফান্তিনোর চতুর্থ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচনে ওশেনিয়া অঞ্চল তাকে সমর্থন জানালেও প্রত্যাহার করেছে নিউজিল্যান্ড। আঞ্চলিক জোট হিসেবে ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন (ওএফসি) কিছুটা ভিন্ন অবস্থান নিয়ে ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি সাবধানী সমর্থন বজায় রেখেছে। ফিফার বাতিল হওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ওএফসি। তবে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি জানায়নি নিউজিল্যান্ড। তারা চেয়েছে একটি স্বাধীন তদন্ত।
ফিফার সামগ্রিক কার্যকলাপে অনাস্থা প্রকাশ করে নিউজিল্যান্ড ফুটবল (এনজেডএফ) প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু প্র্যাগনেল রয়টার্সকে দেয়া সরাসরি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে একটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছি, কারণ আমরা যা দেখতে চাই না তা হলো এই বিষয়ের কোনো অভ্যন্তরীণ ও দায়সারা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা।’
ইনফান্তিনোর ওপর নিউজিল্যান্ড অনাস্থা জানালেও ওশেনিয়া ফুটবল কনফেডারেশন পৃথক এক বিবৃতিতে ফিফার বিগত দশকের উন্নয়নমূলক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছে। ওএফসি জানিয়েছে, ‘ওশেনিয়া অঞ্চলে ফিফার নেতৃত্বে গত এক দশকে ফুটবল উন্নয়নে অর্জিত অগ্রগতিকে ওএফসি স্বীকৃতি দেয় এবং ফিফাকে এই পর্যালোচনার সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় যেকোনো পরিবর্তন শনাক্ত ও বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানায়।’
এ দিকে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ছয়টি আরব দেশের ফুটবল ফেডারেশন প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে। দেশগুলো হলো- কাতার, মরক্কো, মিসর, লেবানন, সুদান ও মৌরিতানিয়া।
২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের অভিজ্ঞতা ও ফিফার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকে সমর্থন করছে কাতার। ফিফার বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে বিশ্বকাপ আয়োজনের সফলতাকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দেশটি। ২০৩০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ মরক্কো। ফলে ফিফার নেতৃত্বের সাথে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই মরক্কোর জন্য কৌশলগতও হতে পারে ইনফান্তিনোর সমর্থন। আফ্রিকান ফুটবলে ফিফার সাথে সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়ে ইনফান্তিনোকে সমর্থন করেছে মিসর। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ইনফান্তিনোর বিপক্ষে অবস্থান নিলেও ফিফা সভাপতির পক্ষে থাকা আরব দেশগুলোর অন্যতম লেবানন। বর্তমান সঙ্কটে তারা প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে আলাদা অবস্থান নিয়েছে। ফিফার উন্নয়ন কর্মসূচি ও আফ্রিকান ফুটবলে সহযোগিতার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে ইনফান্তিনোর প্রতি আস্থা দেখিয়েছে সুদান। আফ্রিকান ফুটবলের উন্নয়ন ও ফিফার সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ককে সামনে রেখে ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে মৌরিতানিয়া।


