শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ শতাংশ র‌্যানসমওয়্যারের মূল কারণ সাইবার হামলা : সোফোস

Printed Edition
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ শতাংশ র‌্যানসমওয়্যারের মূল কারণ সাইবার হামলা : সোফোস
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৫ শতাংশ র‌্যানসমওয়্যারের মূল কারণ সাইবার হামলা : সোফোস

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সোফোস তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘স্টেট অব র‌্যানসমওয়্যার ইন এডুকেশন ২০২৬’ প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট র‌্যানসমওয়্যার হামলার ৮৫ শতাংশের পেছনেই রয়েছে ক্ষতিকর ইমেইল, ফিশিং, ব্যবহারকারীর তথ্য বা ক্রেডেনশিয়াল চুরি এবং ব্রুট ফোর্স অ্যাটাক। অন্যান্য খাতে এই হার গড়ে ৭৯ শতাংশ হলেও শিক্ষাক্ষেত্রে তা বেশি। এটি প্রমাণ করে যে, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সব স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পরিচয় জালিয়াতি বা তথ্য চুরির মতো বিষয়গুলো এখনো হ্যাকারদের প্রধান হাতিয়ার।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ৩১ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষায় ২৯ শতাংশ ক্ষেত্রে র‌্যানসমওয়্যার হামলার মূল প্রযুক্তিগত কারণ ছিল ক্ষতিকর ইমেইল। প্রতিবেদনে আরো দেখা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ৭৭ শতাংশ এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ৭১ শতাংশ জানিয়েছে যে, তাদের ওপর হওয়া র‌্যানসমওয়্যার হামলাটিই ছিল তাদের দেখা সবচেয়ে বড় সাইবার হামলা।

হামলার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ঘুরে দাঁড়ানোর গতিও বেশ শ্লথ। অন্যান্য খাতের তুলনায় প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এক থেকে তিন মাস সময় লাগার সম্ভাবনা প্রায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক; ৩১ শতাংশ প্রতিষ্ঠানেরই স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে এক মাস বা তার বেশি সময় লেগেছে, যা অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় সর্বোচ্চ।

সোফোস-এর চিফ ইনফরমেশন সিকিউরিটি অফিসার রস ম্যাককারচার বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময়ই সাইবার অপরাধীদের প্রধান লক্ষ্য, কারণ একদিকে তাদের কাছে প্রচুর ব্যক্তিগত তথ্য থাকে, অন্যদিকে তাদের সীমিত সম্পদ ও বাজেট নিয়ে কাজ করতে হয়। বর্তমানের হ্যাকারদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢোকার সবচেয়ে কার্যকর পথগুলোর একটি হলো পরিচয় জালিয়াতি, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এসব হামলার গতি, পরিধি ও জটিলতা আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠান পরিচয় বা আইডি সুরক্ষাকে তাদের মূল নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেখে এবং একই সাথে হুমকি দমনে সমন্বিত ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তারাই সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত থাকে।