ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিসিবির গত বছরের নির্বাচনে অনিয়ম, কারসাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের স্বাধীন তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গত ১১ মার্চ গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এই ঘটনার পর বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন পদত্যাগ করেছেন। বোর্ড পরিচালকদের পদত্যাগ কতটা বিব্রতকর এবং এই বোর্ড কি টিকে থাকতে পারবে। সেটি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা, তর্ক-বিতর্ক।
২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনের পর থেকেই বর্তমান বোর্ডকে অবৈধ দাবি করছেন তামিম ইকবাল ও তার সমমনা সংগঠকেরা। এই বোর্ড টিকবে তো !! বিসিবি পরিচালকদের এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে হরহামেশাই। তবে বিসিবি সহসভাপতি ফারুক আহমেদ বোর্ড ভাঙার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না।
গতকাল মিরপুরে স্বাধীনতা দিবসে লাল দল-সবুজ দল প্রদর্শনী ম্যাচ শেষে ফারুক বলেন, ‘আমি দুইটা পদত্যাগপত্র দেখেছি। একান্তই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছে। আমি যদি কালকে না থাকি আমারও কোনো ব্যক্তিগত কারণ হতে পারে। ২৫ জন ডিরেক্টর রয়েছেন। অমুক থাকলে ভালো হতো, অমুক না থাকলে বোর্ড চলবে না। সে ধারণা ভুল। বোর্ডের মতো করেই বোর্ড চলবে।’
ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত কমিটির পর গত ১৬ মার্চ বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এই তদন্ত কমিটির কথা আইসিসিতে গেছে। এ ব্যাপারে ফারুক বলেন, ‘যাদের চিঠি দেয়া হয়েছে- একটা হলো সংক্ষুব্ধ পার্টি, আরেকটা হলো ক্রিকেট বোর্ডে যারা আছেন তারা। এটা থেকে কী ফলাফল পাওয়া যাবে, তা আমার জানা নেই। কেননা যারা আছেন তারা বলবেন সব ঠিক আছে। আর যারা নাই, তারা বলবেন সব ভুল হয়েছে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং সাকিব আল হাসান দু’টি নামই কিংবদন্তিতুল্য। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে ভারতকে সিরিজ হারানো মাশরাফির হাত ধরেই বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে এক ‘স্বর্ণযুগ’ দেখেছিল। তবে দেড় বছর ধরে মাঠের বাইরে থাকা এই ক্রিকেটারের নামে বর্তমানে একাধিক মামলা রয়েছে। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই দুই সাবেক অধিনায়কের ভবিষ্যৎ এখন আইনি বেড়াজালে বন্দী। এই স্পর্শকাতর বিষয়েও কথা বলেছেন ফারুক আহমেদ।
মাশরাফির বিসিবিতে আসার সম্ভাবনা নিয়ে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘মাশরাফির বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যে অবদান ছিল- সেটা কিন্তু এখানে লেখা আছে। ওয়ানডে দল আজ যে অবস্থায় এসেছে বা তার সময়টার মধ্যে যে জায়গায় দাঁড়িয়েছিলাম, সেটার পেছনে একটা বিরাট ভূমিকা ছিল পুরো দলকে একত্রিত করার। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে তার যদি অন্য কোনো সমস্যা না থাকে বা সে যদি আসতে চায় বোর্ডে, তাহলে আসবে। মাশরাফির আইনগত কোনো সমস্যা আছে কি না- এটা আমি জানি না। তবে একজন অধিনায়ক হিসেবে সে কী করেছে বাংলাদেশের জন্য, তা বলে শেষ করা যাবে না।’
সাকিব আল হাসানের ক্ষেত্রেও আইনি লড়াইকেই ফেরার একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে বিসিবি। ফারুক আহমেদের মতে, ‘সাকিব একজন গ্লোবাল ব্র্যান্ড, তবে তাকে প্রক্রিয়া মেনেই আসতে হবে। তার ব্যাপারটা বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করেছি। এখন তার যে আইনগত দিকগুলো আছে- এটা সরকারের সাথে বসতে হবে।’



