ক্রীড়া প্রতিবেদক
ভারত তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে যেন রেকর্ডের ঝাঁপি খুলে বসেছে। ব্যাক টু ব্যাক বিশ্বকাপ টি-২০ শিরোপা জেতার রেকর্ড কারো ছিল না। ভারতই সেটি করে দেখাল। ফাইনালের মঞ্চে ২৫০ রান করার কোনো নজির ছিল না। সেখানে ২৫৫ রান করে দেখাল ভারত। ফাইনালে ওপেনিং জুটিতে অর্ধশত রান ছিল না কারোই। ভারতের দুই ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা সেটিও করে দেখাল। ফাইনালে ৯৬ রানে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয় টি-২০ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল ভারত। এটিও একটি রেকর্ড। কিউইদের বিপক্ষে সবচেয়ে বড় জয়। বিশ্বকাপে ৪০ উইকেট নিয়ে শীর্ষে ভারতের পেসার বুমরাহ। ৩৬ উইকেট আছে আর্শদীপের। ফাইনাল সেরা জাসপ্রিত বুমরাহ, সিরিজ সেরা ও মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার সঞ্জু স্যামসন।
এ দিন টস ভাগ্যটাই কেবল ভারতের পক্ষে কথা বলেনি। ম্যাচের বাকিটা সময় নিউজিল্যান্ডের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে তারা। টস হারা দলটির জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিল ব্যাটাররাই। তিন ফিফটিতে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে হারিয়ে ২৫৫ রান করেছে ভারত। জবাব দিতে নামা নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থেমেছে ১৫৯ রানে।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো এবার আর নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের নীল সমুদ্র নিস্তব্ধতা ডুবে যায়নি। সেবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল আয়োজকেরা। তাতে হৃদয় ভেঙেছিল দর্শকদের। এবার তার তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি হয়নি। একের পর এক রেকর্ড গড়ে সেই মাঠেই শিরোপা উৎসবে মাতল ভারতীয়রা।
টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে ভক্তরা দারুণ এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু ভারতের দাপটে ফাইনালটা ঠিক ফাইনালের মতো হলো না। একপেশে ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিল সূর্যকুমার যাদবের দল। প্রথম দল হিসেবে রেকর্ড তিনবার টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পেল ভারত (২০০৭, ২০২৪, ২০২৬)। এর আগে কোনো দল এতবার এই সংস্করণের বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।
সর্বোচ্চ দুইবার করে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ইংল্যান্ড। এবার তাদের পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়ল ভারত। ২০২৪ সালের আসরে টি-২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় শিরোপা জিতেছিল দলটি। প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার টি-২০ বিশ্বকাপ জেতার কীর্তি গড়ল ভারত। শুধু তাই নয়- স্বাগতিক হিসেবে প্রথম কোনো দলের টি-২০ বিশ্বকাপ জয় দেখল ক্রিকেট বিশ্ব।
ফাইনালে পাহাড়সম রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লের ছয় ওভার শেষ হতেই সাজঘরের পথ ধরেন কিউইদের তিনজন ব্যাটার। ফিন অ্যালেন ৯, রাচিন রবীন্দ্র এক, গ্লেন ফিলিপস পাঁচ এবং মার্ক চ্যাপম্যান তিন রান করেন। নিয়মিত উইকেট পতনের পরও আপন তালে খেলে ওপেনার টিম সেইফার্ট মাত্র ২৬ বলে ৫২ রান করে আউট হন। তার এই অনবদ্য ইনিংসটি দু’টি চার ও পাঁচটি ছয়ে সাজানো। এরপর দলনেতা মিচেল স্যান্টনার ছাড়া সুবিধা করতে পারেননি কেউ-ই। ৩৫ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটি খেলেন তিনি। এ ছাড়া জেমস নিশাম ৮, ম্যাট হেনরি শূন্য, লকি ফার্গুসন ছয় ও জ্যাকব ডাফি তিন রান করেন। বুমরাহ চারটি, অক্ষর প্যাটেল তিনটি উইকেট নেন।
এর আগে আহমেদাবাদে টস জিতে ভারতকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ব্যাট করতে নেমে প্রথম দুই ওভার দেখেশোনেই খেলেন ভারতের দুই ওপেনার। এরপর কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হতে থাকেন তারা। একের পর এক চার-ছক্কায় প্রথম ছয় ওভারে বিনা উইকেটে ৯২ রান পেয়ে যায় ভারত। মাত্র ১৮ বলেই ফিফটি তুলে নেন অভিষেক শর্মা। এরপর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। ২১ বলে ৫১ রান করে আউট হন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে ইশান কিষাণ সঞ্জু তাণ্ডব চালাতে থাকেন। এবারো শতকের দেখা পেলেন না সঞ্জু। আউট হয়েছেন ৮৯ রানে। মাত্র ৪৬ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি পাঁচটি চার ও আটটি ছয়ে সাজানো।
এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন ইশান কিষাণও। শেষপর্যন্ত পাঁচ উইকেটে ২৫৫ রানে থামে ভারত।
নিউজিল্যান্ডের জেমস নিশাম সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন।
ভারত : ২৫৫/৫. নিউজিল্যান্ড : ১৫৯/১০
ফল : ভারত ৯৬ রানে জয়ী



