আলজাজিরা
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ধারাবাহিক ‘উসকানিমূলক ও শত্রুতামূলক’ আচরণের কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে দেশটির সাথে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে আলজেরিয়া। বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বারবার সতর্ক করার পরও আবুধাবির গৃহীত পদক্ষেপগুলো এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আর মেনে নেয়া সম্ভব নয়। ফলে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষায় সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে আলজিয়ার্সে নিযুক্ত আমিরাতি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছে এবং দেশ ত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে। পাশাপাশি আলজেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে আননাহার টিভি জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে আমিরাতের বেসামরিক ও সামরিক সব বিমান ব্যবহারের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেবে আলজেরিয়া। তবে বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ থাকায় ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত আমিরাতের যাত্রীবাহী বিমান চলাচলে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নকে আলজেরিয়ার একপক্ষীয় সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে আবুধাবি এটিকে ‘সাময়িক’ বলে আশা প্রকাশ করেছে। ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে দুই দেশের জনগণের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
বিরোধের নেপথ্য কারণ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক আঞ্চলিক ও ভূ-রাজনৈতিক ইস্যুতে দুই দেশের চরম মতপার্থক্যের কারণে এই টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।
ইসরাইল নীতি : ২০২০ সালের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় আমিরাত ও আলজেরিয়ার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী মরক্কো ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আলজেরিয়া শুরু থেকেই ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের কঠোর বিরোধী।
পশ্চিম সাহারা সঙ্ঘাত : বিতর্কিত পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর সার্বভৌমত্ব সমর্থন করে সেখানে কনস্যুলেট চালু করেছে আমিরাত। অন্যদিকে আলজেরিয়া সমর্থন দিচ্ছে স্বাধীনতাকামী পলিসারিও ফ্রন্টকে।
সাহেল অঞ্চল ও নিরাপত্তা ইস্যু : আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সামরিক অভ্যুত্থানের পর আমিরাত নতুন সরকারগুলোর সাথে প্রভাব বাড়ালেও আলজেরিয়ার সাথে প্রতিবেশীদের সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেল মাজিদ তেবৌনে বিভিন্ন সময়ে আমিরাতকে এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী রাষ্ট্র হিসেবে তোপ দেগেছেন।



