শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে কাজ করব

সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেয়া হবে না : ডা: শফিক

Printed Edition
সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেয়া হবে না : ডা: শফিক
সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেয়া হবে না : ডা: শফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢাকা-১৫ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে আমাদের এই অঙ্গীকারকে কেউ দুর্বলতা মনে করবেন না। জুলাই বিপ্লব মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেয়া হবে না-কারো পক্ষ থেকেই নয়।

গতকাল দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থকরা, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির মতের সাথে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে যেসব নিরীহ নাগরিক ও ভোটার সহিংসতার শিকার হয়েছেন- আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রত্যেক নিরপরাধ ভুক্তভোগীর পাশে আমরা দৃঢ় সংহতি ঘোষণা করছি।

যে জাতি সদ্য তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই- জুলাই বিপ্লব এখনো জীবিত। জুলাই সনদ ছিল একেবারে সুস্পষ্ট- আর কোনো স্বৈরাচার নয়; না রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে, না কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে। এ দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, আবারো ভয়-ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।

তিনি আরো লেখেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি- অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনুন। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগই পারে পরিস্থিতি অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে এবং নিশ্চিত করতে, কোনো নাগরিক যেন বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা খুঁজতে বাধ্য না হন। প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করতে হবে।

জামায়াত আমির দলীয় নির্বাচিত এমপি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেরি না করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে যান, তাদের পাশে দাঁড়ান, সংহতি প্রকাশ করুন এবং প্রমাণগুলো সংগ্রহ করুন। ছবি, ভিডিওসহ সব তথ্য-প্রমাণ যথাযথভাবে সংগ্রহ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিন এবং গণমাধ্যমের সাথে শেয়ার করুন, প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করুন, যাতে সত্য জাতির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপিত হয়।

তিনি বলেন, আসন্ন সরকারের প্রতি আমাদের বার্তা পরিষ্কার- জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়; এটি একটি শর্তযুক্ত আমানত। এই আমানতের মূল শর্ত হলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা প্রদান। সুশাসনের প্রথম পরীক্ষা শুরু হয় নিজের দল ও কর্মীদের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।

জামায়াত আমির তার ফেসবুক পোস্টে আরো লেখেন, এই কয়েক মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করা অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক এবং সমর্থকদের প্রতি আমি আমার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনাদের অনেকেই আপনাদের সময়, শক্তি এবং দৃঢ়বিশ্বাস দিয়েছেন। কেউ কেউ কেবল তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের জন্য হুমকি এবং হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন। আপনাদের সাহস আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।

তিনি লেখেন, আমি জানি আপনাদের অনেকেই আহত এবং গভীরভাবে হতাশ বোধ করছেন। এটা স্বাভাবিক। যখন আপনি কোনো কাজে আপনার হৃদয় বিনিয়োগ করেন, তখন আপনি এর ফলাফল গভীরভাবে অনুভব করেন। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই : আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। ৭৭টি আসন নিয়ে, আমরা আমাদের সংসদীয় উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বাড়িয়েছি এবং আধুনিক বাংলাদেশী রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী দলে পরিণত হয়েছি। এটি কোনো বিপর্যয় নয়। এটি একটি ভিত্তি।

জামায়াত আমির লেখেন, ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে রাজনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তন হয়। ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০টি আসনে নেমে আসে এবং ২০২৬ সালে সরকার গঠনে ফিরে আসে, এই যাত্রায় ১৮ বছর লেগেছিল। গণতান্ত্রিক রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের পথ পরিষ্কার : আস্থা অর্জন করুন, ক্ষমতার জবাবদিহি করুন এবং ভবিষ্যতের জন্য দায়িত্বশীলভাবে প্রস্তুত হন। ডা: শফিকুর রহমান লেখেন, যেকোনো প্রকৃত গণতান্ত্রিক যাত্রায়, নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা কেবল আমরা কীভাবে প্রচারণা চালাই তা নয়, বরং জনগণের রায়ের প্রতি আমরা কীভাবে সাড়া দিই তাও। শুরু থেকেই আমরা একটি স্থিতিশীল এবং কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি অটুট রয়েছে। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিই এবং আইনের শাসনকে সম্মান করি।

জামায়াত আমির লেখেন, আমাদের আন্দোলন কখনো একক নির্বাচনের ওপর নির্ভর করেনি। এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের ওপর নির্ভর করে। আমরা একটি সতর্ক, নীতিবান এবং শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে কাজ করব, জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখার পাশাপাশি সরকারকে জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত থাকব। নীতিবান, শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি অটল থাকবে।