বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
দেশের ক্ষতি করে কাউকে বন্দরের কোনো টার্মিনাল দেয়া হবে না মন্তব্য করে নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনা নিয়ে নেদারল্যান্ডসের এপিএম টার্মিনালসের সাথে আলোচনা চলছে। তবে তারা যেটা চাইছে, আমরা তা মানিনি। প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি।
গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে এসে নগরীর পতেঙ্গায় লালদিয়ার চর কনটেইনার ইয়ার্ড উদ্বোধনের সময় এবং বে টার্মিনাল এলাকায় পৃথকভাবে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নুরুন্নাহার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেতে হলে বন্দরের দক্ষতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হবে। এ জন্য প্রযুক্তি দরকার, বিনিয়োগ দরকার। বাংলাদেশে বড় বড় খাতে খুব কম বিনিয়োগ হয়েছে। তবে বন্দর সম্প্রসারণ ঘিরে চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে।
লালদিয়া কনটেইনার ইয়ার্ড ছাড়াও উপদেষ্টা বে-টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন টার্মিনাল, তালতলা কনটেইনার ইয়ার্ড (ইস্ট কলোনি সংলগ্ন) উদ্বোধন করেন। এ ছাড়া বন্দরের এক্স ওয়াই শেড ও কাস্টমস অকশন শেড পরিদর্শন করেন।
পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে চাঁদাবাজি হবে কি হবে না আমি তো বলতে পারব না। তবে আমরা যে ব্যবস্থা করছি, পুরোটাই ডিজিটালের চেষ্টা করছি। চট্টগ্রাম বন্দরও পুরোটাই ডিজিটাল হবে। তখন আশাকরি চাঁদাবাজি কমে যাবে। চাঁদাবাজি কারা করছে তা আপনারা ভালো করে জানেন, আমি বলতে পারব না। তবে এগুলো কমে যাবে। আমি নাম জানি না, কিন্তু চাঁদাবাজি হচ্ছে।
বন্দরের ট্যারিফ বাড়ানোর বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, ট্যারিফ বাড়ানোর আগে ব্যবসায়ীসহ বন্দরের সব স্টেক হোল্ডারদের সাথে আমরা কথা বলেছি। শ্রমিকদের সাথেও কথা বলেছি। ১৯৮৪ সালের ট্যারিফ দিয়ে ৪০ বছর ধরে বন্দর চলছিল। ৪০ বছর পরে বন্দর তাদের ট্যারিফ হালনাগাদ করেছে। তারপরও যেহেতু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ এসেছে, সেটির বিষয়ে আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে পর্যালোচনার অনুরোধ জানাব।



